
জলপাইগুড়ি, আমার কলকাতা প্রতিনিধি:
জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড় আলতা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত ফের রাজনৈতিক চর্চায়। পঞ্চায়েতের দখল বিজেপির হাতে আসার পর এবার নবনির্বাচিত প্রধানকে সংবর্ধনা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এল দলের অন্দরের বিভাজনের ছবি।
একই দিনে, একই পঞ্চায়েত কার্যালয়ে দুই দফায় পৃথকভাবে সংবর্ধনা দেওয়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
গত ৯ সেপ্টেম্বর ঝাড় আলতা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন হয়। ১৪ সদস্যের এই পঞ্চায়েতে আগে ১৩ জন তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য এবং একজন বিজেপি সদস্য ছিলেন।
বিজেপির একমাত্র সদস্য পপি রায়কেই পরে প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বোর্ড গঠনের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পঞ্চায়েত চত্বরে একাধিক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা যায়।
এরপর তৃণমূলের তিন পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁদের দাবি, প্রধান পপি রায়কে সমর্থন করেই তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। যদিও এই যোগদানকে ঘিরে দলের অন্দরেই নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
এর মধ্যেই বুধবার নবনির্বাচিত প্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারে বসানোর আগে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। আর সেই অনুষ্ঠানেই ফের সামনে আসে বিজেপির অন্দরের বিভাজনের ছবি।
দুপুর ১২টা নাগাদ পঞ্চায়েত কার্যালয়ে প্রথমে বিজেপির একদল কর্মী-সমর্থক নবনির্বাচিত প্রধান পপি রায়কে সংবর্ধনা জানান। এরপর ওই দলটি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছন বিজেপির আরেকদল কর্মী-সমর্থক।
তাঁরাও পৃথকভাবে প্রধানকে সংবর্ধনা দেন। একই দিনে একই প্রধানকে দুই দফায় সংবর্ধনা দেওয়ার ঘটনায় পঞ্চায়েত চত্বরে শুরু হয় জোর গুঞ্জন।
যদিও প্রকাশ্যে গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি কেউ। বিজেপির পশ্চিম মণ্ডল সভাপতি পলাশ বসাকও গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
তবে দলের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি উঠেছে। তাঁরা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও আগামী দিনে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
পঞ্চায়েতের দখল বিজেপির হাতে এলেও দলের অভ্যন্তরীণ এই বিভাজন আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
