
ফালাকাটা, আলিপুরদুয়ার | আমার কলকাতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি প্রায় ৪১ কিলোমিটার মহাসড়কের ফোর লেনের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। অথচ অসমে পরবর্তী সময়ে কাজ শুরু হলেও সেখানে প্রকল্পের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। ফালাকাটায় একই প্রকল্পের কাজে এত দীর্ঘসূত্রিতা কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মহাসড়কের কাজকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি বিধায়ক পরিতোষ দাস। সম্প্রতি শালকুমারহাটে বিজেপির তপশিলি মোর্চার একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রকল্পের জমি ও বাড়িঘরের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কাজে অনিয়মের অভিযোগ করেন।
বিধায়কের বক্তব্য সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কিছু আধিকারিকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পরিতোষ দাসের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও অনিয়ম হয়েছে। বাড়ি বা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা প্রকৃত প্রাপকের পরিবর্তে অন্য কারও নামে দেখানো হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিধায়ক আরও দাবি করেন, সম্প্রতি তাঁর হাতে একটি নথি এসেছে। সেখানে ‘এস সরকার’ নামে এক ব্যক্তির প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও অনেক বেশি টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে বিধায়ক বলেন, ফোর লেনের কাজ দীর্ঘদিন ধরে শেষ না হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি দুর্নীতির অভিযোগ দেখতে পাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের ভূমিকা তদন্ত করা প্রয়োজন।
পরিতোষ দাস জানিয়েছেন, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে তিনি চিঠি দেবেন। পাশাপাশি গোটা বিষয়টি নিয়ে CID তদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বিধায়কের দাবি, একটি শিটে ২৪ জনের নাম থাকলেও সেখানে বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, এত বছরের একাধিক নথি খতিয়ে দেখা হলে আরও বড় অঙ্কের অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতে পারে।
এদিকে ‘এস সরকার’ নামে যে ব্যক্তির কথা বিধায়ক তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, তাঁর সম্পূর্ণ পরিচয় ও এই প্রকল্পে তাঁর ভূমিকা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ওই ব্যক্তিকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের কথাও সামনে এসেছে, তবে সেগুলির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিধায়কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিজেপির স্থানীয় নেতাদের একাংশের কাছে ওই ব্যক্তির যোগাযোগের অভিযোগও উঠেছে। তবে এই সংক্রান্ত অভিযোগেরও স্বাধীন কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
গোটা ঘটনায় বিধায়ক পরিতোষ দাস নিজের অবস্থান স্পষ্ট রেখেছেন এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এখন তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার। অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
