📅   |   🕒   |   📍 কলকাতা   |   🔴 Breaking News
🔴 বাংলা থেকে বিশ্ব — খবরের শীর্ষে ‘আমার কলকাতা’।

বাবরি বলা হুমায়ুনই এবার শাঁখারভের জন্য পাতলেন লাল কার্পেট! রেজিনগরে রামমন্দিরের পালটা চাল বিজেপির

মুর্শিদাবাদ,আমার কলকাতা : রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে শাঁখারভ সরকারকে ঘোষণা করার পরই বদলে গেল রাজনৈতিক সুর। একসময় যাঁকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছিলেন, সেই শাঁখারভকেই এবার ‘বন্ধু লোক’ বলে উল্লেখ করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। একইসঙ্গে পুরনো হুমকিও প্রত্যাহার করার কথা জানান তিনি।

রেজিনগর বিধানসভা আসনে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। হুমায়ুন কবীর আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদকে প্রার্থী করেছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। অন্যদিকে, বিজেপি মঙ্গলবার দলের রাজ্য সম্পাদক তথা প্রাক্তন বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শাঁখারভ সরকারের নাম ঘোষণা করেছে।

শাঁখারভকে ‘বন্ধু’ বললেন হুমায়ুন

বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, শাঁখারভ সরকার তাঁর পরিচিত এবং বন্ধু। তাঁর দাবি, অতীতে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে শাঁখারভ তাঁর বিরুদ্ধে মন্তব্য করলেও এখন পরিস্থিতি আলাদা।

হুমায়ুন বলেন, “শাঁখারভ আমার বন্ধু লোক। শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন ও জেলা সভাপতি ছিল। শুভেন্দু হুঙ্কার দিলে ও-ও টিআরপি বাড়াতে আমার বিরুদ্ধে বলত।”

এরপর পুরনো রাজনৈতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে শাঁখারভকে কটাক্ষ করে হুমায়ুন বলেন, তিনি বাবরি মসজিদের প্রসঙ্গ তুললে পালটা বহরমপুরে রাম মন্দির তৈরির কথা বলা হয়েছিল। সেই মন্দিরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পুরনো হুমকি প্রত্যাহার

শাঁখারভকে নিয়ে অতীতে দেওয়া নিজের বক্তব্য প্রসঙ্গেও সুর নরম করেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, আগে শাঁখারভকে রশিতে বেঁধে নদিয়ায় পাঠানোর কথা বললেও সেই মন্তব্য তিনি প্রত্যাহার করছেন।

হুমায়ুনের কথায়, “আমি প্রার্থী নই, ছেলে প্রার্থী। শাঁখারভকে বলব, রেজিনগরে এলে জানাবেন, দুই ভাই চা খাব।”

তবে বিজেপি উপনির্বাচনে বিপুল অর্থ খরচ করবে বলেও দাবি করেন হুমায়ুন। তাঁর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শাঁখারভকে ঘিরে পালটা রাজনৈতিক আক্রমণও করেন তিনি।

পালটা জবাব শাঁখারভের

হুমায়ুনের মন্তব্যের পালটা জবাব দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শাঁখারভ সরকার। তাঁর বক্তব্য, হুমায়ুন রেজিনগরকে নিজের মতো করে দেখছেন এবং মানুষ উপনির্বাচনের মাধ্যমে তার জবাব দেবে।

শাঁখারভ বলেন, “হুমায়ুন রেজিনগরকে অন্য রাষ্ট্র ভাবছেন। মানুষ তাঁকে উপনির্বাচন করানোর জন্য ভোট দেয়নি, তিনি প্রতারণা করেছেন।”

তাঁর আরও দাবি, এবারের নির্বাচনে এমন ফল হবে যাতে ভবিষ্যতে হুমায়ুনের পরিবারের পক্ষ থেকে ভোটে দাঁড়ানোর বিষয়টিও মানুষ বিবেচনা করবে।

ধর্ম নয়, উন্নয়ন—শাঁখারভের বার্তা

বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর শাঁখারভ সরকার তাঁর প্রচারের মূল বিষয় হিসেবে উন্নয়নকে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, রেজিনগরে ভালো স্কুল-কলেজ, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ভাগীরথী নদীর উপর স্থায়ী সেতুর মতো বিষয় তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

শাঁখারভ বলেন, “বাবার হাত ধরে বিজেপিতে এসেছি। প্রার্থী হওয়ার জন্য দরবার করিনি। রেজিনগরে ধর্ম নয়, উন্নয়নই ইস্যু।”

প্রার্থীর বক্তব্য অনুযায়ী, রেজিনগরের ভোটে উন্নয়নমূলক বিষয়গুলিকেই সামনে রেখে প্রচার চালাতে চায় বিজেপি।

বিজেপির সংগঠনের উপর ভরসা

বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় মহাজনও শাঁখারভ সরকারের দীর্ঘ সাংগঠনিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, শাঁখারভ দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এবং তাঁকে প্রার্থী করায় দলের কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে শাঁখারভের নাম ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, এর আগেও হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত মন্তব্যের পালটা বহরমপুরে রাম মন্দিরের ভূমিপুজোর ঘোষণা করেছিলেন শাঁখারভ সরকার। সেই পুরনো রাজনৈতিক সংঘাতই এবার রেজিনগরের উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এখন রেজিনগরের উপনির্বাচনে মূল লড়াই ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা বাড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে। ভোটগ্রহণ হবে ৬ অক্টোবর, আর গণনা হবে ৯ অক্টোবর।

রিপোর্ট: রাজেন্দ্র নাথ দত্ত, মুর্শিদাবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top