📅   |   🕒   |   📍 কলকাতা   |   🔴 Breaking News
🔴 বাংলা থেকে বিশ্ব — খবরের শীর্ষে ‘আমার কলকাতা’।

নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথের মনোনয়ন, শুভেন্দুর পদযাত্রায় আবেগের ঢল

হলদিয়া, আমার কলকাতা: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন হাসিরানি রথ। প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথের মনোনয়নকে ঘিরে মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম ও হলদিয়ায় দেখা যায় আবেগঘন পরিবেশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পদযাত্রাও হয়।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে সকালে রেয়াপাড়ার শিবমন্দির এবং জানকীনাথ মন্দিরে পুজো দেন হাসিরানি রথ। এরপর দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে হলদিয়া মহকুমা শাসকের দফতরে পৌঁছে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিজেপি প্রার্থী।

দল তাঁকে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী করায় আবেগপ্রবণ হাসিরানি রথ বলেন, শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের পরিবারের অভিভাবকের মতো। নন্দীগ্রামের মানুষের স্বার্থে এবং এলাকার উন্নয়নের কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করবেন বলেও জানান তিনি।

হাসিরানি রথের প্রার্থিতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর ছেলে চন্দ্রনাথ রথের স্মৃতিও। চন্দ্রনাথ রথ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। চলতি বছরের মে মাসে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মনোনয়ন পর্বের পর আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, বিরোধী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে চন্দ্রনাথকে টার্গেট করা হয়েছিল। চন্দ্রনাথ তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করতেন—এটাই তাঁর ‘অপরাধ’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তাঁর এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক দাবি হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।

নন্দীগ্রাম আসনে উপনির্বাচনের পটভূমিও তৈরি হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর আসন পরিবর্তনের কারণে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই আসন থেকেই জয়ী হন তিনি। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম আসন থেকে ইস্তফা দেওয়ায় এই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে একাধিক রাজনৈতিক দল প্রার্থী দিয়েছে। বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে সঞ্চিতা প্রধান দে-র নাম ঘোষণা হয়েছে। কংগ্রেসও মিলন প্রধানকে প্রার্থী করেছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের একটি পৃথক গোষ্ঠীও নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে নন্দীগ্রামে এবারের উপনির্বাচনে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর এবং ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর।

নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথের মনোনয়ন ঘিরে বিজেপির প্রচারে যেমন চন্দ্রনাথ রথের পরিবারের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে, তেমনই উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারও ইতিমধ্যে জোরদার হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক লড়াই আরও জমে উঠবে বলেই স্পষ্ট।

রিপোর্ট : চিন্ময় চক্রবর্তী
আমার কলকাতা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top