
দীপঙ্কর দোলাই , ঘাটাল: আধুনিকতার চাকচিক্য সরিয়ে রেখে আদিম মানবসভ্যতার দিনগুলিকে তুলে ধরার অভিনব উদ্যোগ। বাঁশ, কাঠ ও গাছের ছালের মতো প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে সেজে উঠছে ঘাটালের রামচন্দ্রপুর সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজোমণ্ডপ। পুজোর ২৬তম বর্ষে উদ্যোক্তাদের ভাবনা, ‘আদিম মানবজীবন’।
প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক এবং আদিম যুগের জীবনযাত্রার ছবি এ বার ফুটে উঠবে রামচন্দ্রপুরের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে। কৃত্রিম সাজসজ্জার বদলে প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে দর্শনার্থীদের সামনে সভ্যতার সূচনালগ্নের পরিবেশ তুলে ধরার চেষ্টা করছেন উদ্যোক্তারা।
মণ্ডপ নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ, কাঠ, গাছের ছাল-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান। মণ্ডপের নকশা ও সাজসজ্জার মধ্য দিয়ে আদিম মানুষের জীবনযাপন এবং প্রকৃতির উপর তাঁদের নির্ভরতার ছবি তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অভিনব এই থিম দর্শনার্থীদের কাছে পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা উদ্যোক্তাদের।
শুধু মণ্ডপসজ্জা নয়, প্রতিমার ভাবনাতেও রয়েছে নতুনত্ব। দেবী দুর্গাকে পরিচিত পৌরাণিক রূপের পাশাপাশি এক সাধারণ বাঙালি পরিবারের মেয়ের অবয়বে তুলে ধরার প্রয়াস রয়েছে এ বারের পুজোয়। মাতৃশক্তির আরাধনার সঙ্গে বাঙালির পারিবারিক আবেগকে মেলানোর এই উদ্যোগ পুজোর ভাবনায় এনেছে ভিন্ন মাত্রা।
পুজো কমিটির সদস্য অনিমেষ চৌধুরী জানান, দর্শনার্থীদের সামনে এক অভিনব জগৎ তুলে ধরতেই এ বারের আয়োজন। বাঁশ, কাঠ ও গাছের ছালের মতো প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমার অবয়বেও নতুনত্ব রাখার চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তারা।
সব মিলিয়ে, ঘাটালের রামচন্দ্রপুর সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির ২৬তম বর্ষের পুজোয় আদিম মানবজীবনের ভাবনা, প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার এবং প্রতিমার অভিনব রূপ দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে।