
দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও উন্নয়নের কাজ আটকে যাওয়া রুখতেই বড় পদক্ষেপের দাবি; পঞ্চায়েত সচিবদের হাতে যাবে আর্থিক সইয়ের ক্ষমতা, শুরু হচ্ছে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
বিশেষ প্রতিবেদন | আমার কলকাতা ডিজিটাল ডেস্ক
রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে প্রশাসন। পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে থাকা আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিলে সই করার ক্ষমতা (Signatory Power) সরকারি আধিকারিক তথা পঞ্চায়েত সচিবদের হাতে তুলে দিতে একটি সংশোধনী বিল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই রাজ্য বিধানসভায় বিলটি পেশ ও পাস করানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, উন্নয়নের কাজ আটকে রাখা এবং হিংসার মতো অভিযোগ রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, দেশের অধিকাংশ রাজ্যে নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রধানদের এ ধরনের সরাসরি আর্থিক সইয়ের ক্ষমতা নেই; সরকারি আধিকারিকদের মাধ্যমেই আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে প্রশাসনিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া তুলনামূলক জটিল হওয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও জানানো হয়েছে, কোনো এলাকায় উন্নয়নের কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেও পঞ্চায়েতের কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি
পঞ্চায়েত সচিব, জেলা স্তরের আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিদের জন্য চার দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং আইন মেনে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশাসনের দাবি, নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে পঞ্চায়েত স্তরে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে এবং উন্নয়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
(বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকাশিত বক্তব্য ও প্রশাসনিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলটি বিধানসভায় পাস হওয়ার পরই আইন হিসেবে কার্যকর হবে।)
খুব ভালো খবর পেলাম