
বিদেশি অনলাইন বেটিং পোর্টালের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ, PMLA আইনে তদন্ত শুরু
গুয়াহাটি:
আইপিএল মরসুমে বেআইনি বেটিং চক্রের তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বেআইনি বেটিং কার্যকলাপের মাধ্যমে অর্থপাচারের অভিযোগে আলোক কুমার জৈনকে গ্রেফতার করেছে ED। ED-এর গুয়াহাটি জোনাল অফিস ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA), ২০০২-এর অধীনে এই গ্রেফতার করেছে।
বিদেশি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে IPL বেটিং পরিচালনার অভিযোগ
ED-এর তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, আলোক কুমার জৈন একটি সংগঠিত বেআইনি বেটিং চক্রের অন্যতম প্রধান পরিচালনাকারী হিসেবে কাজ করতেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তিনি বিদেশভিত্তিক অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম যেমন “Sky Exchange”, “WIFI Exchange” এবং “Bull Intraconnect”-এর মাধ্যমে IPL ম্যাচের বেট পরিচালনা ও নিষ্পত্তি করতেন।
মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
ED জানিয়েছে, বেটিং থেকে পাওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস গোপন করতে আলোক জৈন একাধিক মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ। তদন্তে অভিযোগ, নিজের গৃহকর্মীদের KYC নথি ব্যবহার করে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল এবং সেই অ্যাকাউন্টগুলির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর যুক্ত ছিল। ED-এর দাবি, প্রকৃত অ্যাকাউন্টধারীদের অনুমতি ছাড়াই ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে বেআইনি বেটিংয়ের অর্থ ঘোরানো হয়েছিল।
সোনা, বুলিয়ন ও বিলাসবহুল সম্পত্তিতে অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগ
তদন্তে ED জানিয়েছে, বেটিং থেকে পাওয়া অর্থকে বৈধ সম্পদে রূপান্তর করার জন্য বুলিয়ন, সোনা, বিলাসবহুল সামগ্রী এবং রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।তদন্তে পাওয়া আর্থিক নথিতে বিপুল পরিমাণ লেনদেনের ত থ্য পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে ED।
আয়ের সঙ্গে সম্পত্তির অসঙ্গতির অভিযোগ
ED-এর তদন্তে দাবি করা হয়েছে, আয়কর নথিতে ঘোষিত আয়ের তুলনায় আলোক জৈনের সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের মধ্যে বড় অসঙ্গতি রয়েছে। তদন্তে অজানা ঋণ, অগ্রিম অর্থ, পরিবারের সদস্যদের কাছে অর্থ স্থানান্তর এবং একাধিক স্থাবর সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ED।
আদালতের নির্দেশে ED হেফাজত
প্রাথমিক মামলায় আলোক জৈন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকায় ED গুয়াহাটির বিশেষ PMLA আদালতে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে। আদালতের জারি করা প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের পর PMLA আইনের ১৯(১) ধারায় তাঁকে গ্রেফতার করে ED। আদালত আরও তদন্তের জন্য আলোক জৈনকে ৪ দিনের ED হেফাজতের অনুমতি দিয়েছে। বেআইনি বেটিং থেকে তৈরি অর্থের পরিমাণ এবং অর্থপাচারের পুরো চিত্র খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে
সূত্র: Enforcement Directorate (ED) Press Release | 22 July 2026