
রাজেন্দ্র নাথ দত্ত, মুর্শিদাবাদ: সামনেই দুর্গাপুজো। জোরকদমে চলছে পুজোর প্রস্তুতি। তবে টানা বৃষ্টিতে চিন্তায় পড়েছেন মুর্শিদাবাদের মৃৎশিল্পীরা। দু’-একদিন অন্তর বৃষ্টি হওয়ায় বারবার বাধার মুখে পড়ছে প্রতিমা তৈরির কাজ।
গত কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টিতে প্রতিমার মাটি শুকোতে সমস্যা হচ্ছে। এরই মধ্যে পুজোর মুখে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি শেষ হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে শিল্পীদের।
বৃষ্টিতে প্রতিমার মাটি শুকোতে সমস্যা
মৃৎশিল্পীদের কথায়, প্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রে মাটি শুকোনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে মাটি শুকোতে বেশি সময় লাগছে।
কোথাও আবার বৃষ্টির জলে ভিজে যাচ্ছে তৈরি হওয়া প্রতিমার মাটি। মাটি ভালোভাবে না শুকোনো পর্যন্ত শুরু করা যাচ্ছে না রংয়ের কাজও।
মৃৎশিল্পী বিনয় পাল বলেন, মরশুমের শুরুতেই মাটি নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। বাড়তি টাকা দিয়েও বাজারে মাটি পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে প্রতিমা তৈরির কাজ কিছুটা দেরিতে শুরু হয়।
বিনয় পাল জানান, মাটির সমস্যা কাটিয়ে ওঠার আগেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। রোদ না ওঠায় প্রতিমার মাটি শুকোচ্ছে না। মাটি না শুকোলে রংয়ের কাজও শুরু করা সম্ভব নয়। ফলে পুজোর আগে কাজ শেষ করা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
প্রতিমার বাজেট নিয়েও উদ্বেগ
শুধু বৃষ্টি নয়, প্রতিমার বাজেট নিয়েও সমস্যায় পড়েছেন মৃৎশিল্পীরা। মৃৎশিল্পী অভিজিৎ পাল জানান, সরকারি অনুদান নিয়ে একাধিক বারোয়ারি পুজো কমিটি দোটানায় রয়েছে। ফলে অনেকেই প্রতিমার বাজেট বাড়াতে চাইছেন না।
অন্যদিকে, বেড়েছে মাটির দাম। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বাড়ছে কাজের খরচও। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে প্রতিমা শিল্পীদের লাভ কমে যেতে পারে বলে জানান অভিজিৎ পাল।
বৃষ্টির মধ্যেই চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ
মুর্শিদাবাদের কুমোরপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যেই প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন শিল্পীরা। গোলার ভিতরে সব প্রতিমা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কিছু প্রতিমা বাইরে রাখতে হয়েছে।
বৃষ্টির হাত থেকে প্রতিমা বাঁচাতে বাইরে রাখা মূর্তিগুলি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। তবে তাতেও পুরোপুরি চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না শিল্পীরা।
শুকোতে না পারায় আটকে রংয়ের কাজ
মৃৎশিল্পী স্বপন পাল জানান, কয়েকদিন আগেই প্রতিমাগুলিতে মাটি দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। এখন মুখ, হাত, পা এবং আঙুল-সহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরির কাজ চলছে।
সাধারণত এই কাজের পর প্রতিমা রোদে শুকোতে দেওয়া হয়। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় বৃষ্টির জল পড়ে প্রতিমার মাটি ধুয়ে যাচ্ছে।
গোলার ভিতরে জায়গা কম থাকায় কিছু প্রতিমা বাইরে রাখতে হচ্ছে। সেই প্রতিমাগুলিকে বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুজোর আগে সময়ের চাপ
দুর্গাপুজো যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সময়ের চাপ। প্রতিমা তৈরি, মাটি শুকোনো এবং রংয়ের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।
তাই এখন আকাশ পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় মুর্শিদাবাদের মৃৎশিল্পীরা। বৃষ্টি থেমে রোদ উঠলেই দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন শিল্পীরা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না এলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েই এখন উদ্বেগ রয়েছে।