
খড়্গপুর,আমার কলকাতা: রেল শহর খড়্গপুরে স্কুলপড়ুয়া অক্ষয় ঝা (১৫)-এর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় নয়া মোড়। দুষ্কৃতীদের গুলিতে নয়, বরং বন্দুক নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় অসাবধানতাবশত গুলি বেরিয়ে ওই পড়ুয়া জখম হয় বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও এক জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা সাংবাদিক বৈঠক করে তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনাটির নেপথ্যে উঠে আসা তথ্য জানান। তাঁর বক্তব্য, প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার সঙ্গে কোনও মাফিয়া চক্রের যোগসূত্র মেলেনি।
বন্দুক নিয়ে নাড়াচাড়া, তারপরই গুলি
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অক্ষয় ঝা ও তার পরিচিত সাগর কুমার রাও বন্দুক নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল। সেই সময় অসাবধানতাবশত গুলি বেরিয়ে অক্ষয়ের গায়ে লাগে। এরপর ঘটনাটিকে রাস্তায় গুলি চালানোর ঘটনা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
প্রথমদিকে দাবি করা হয়েছিল, টিফিন করতে যাওয়ার সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তবে তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বয়ান ও ঘটনার বিবরণে অসঙ্গতি সামনে আসে। পুলিশের দাবি, ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগও উঠেছে।
গ্রেফতার তিন, খোঁজ আরও এক জনের
পুলিশ সুপার জানান, এই ঘটনায় সাগর কুমার রাও, কোলা যোগেশ্বর রাও এবং বিশাল জানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও এক জনের সন্ধান চলছে।
বন্দুকটি কোথা থেকে এল, কে সেটি সরবরাহ করেছিল এবং কীভাবে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রটি কিশোরদের নাগালে পৌঁছল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অস্ত্রটি বাড়িতে কীভাবে রাখা হয়েছিল এবং এর পিছনে অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মাফিয়ারাজ বরদাস্ত নয়, কড়া বার্তা পুলিশের
খড়্গপুরের এই গুলিকাণ্ড ঘিরে প্রথম থেকেই বড় কোনও অপরাধী চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত তদন্তে মাফিয়া যোগের প্রাথমিক প্রমাণ মেলেনি।
একই সঙ্গে খড়্গপুর শহরে বেআইনি অস্ত্রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন পুলিশ সুপার। তাঁর বক্তব্য, শহরে মাফিয়ারাজ মাথাচাড়া দিতে দেওয়া হবে না। বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারে লাগাতার অভিযান চলবে বলেও তিনি জানান।
এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, স্কুলপড়ুয়াদের নাগালে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছল কীভাবে? অস্ত্রের উৎস এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।