
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: গুরুপূর্ণিমার পবিত্র তিথিতে এক অনন্য গ্রন্থ উন্মোচন অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন রাজ্য সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তবে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে গিয়ে এই মঞ্চে তিনি ধরা দিলেন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে—অনুভূতির গভীরতায় এবং স্মৃতির সরণিতে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল জানান, বিশেষ দিনটিতে এই বই উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে তাঁর এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে। অল্প বয়সেই বইটির লেখিকা জিতাবতী দাসের লেখার গভীরতা এবং চিন্তাভাবনার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি, লেখিকাকে সহায়তা করার জন্য উদ্যোগী কন্তেওর কাজেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বাবা লোকনাথের কৃপা ও জীবনের অভিজ্ঞতা বক্তিতায় উঠে আসে বাবা লোকনাথের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভক্তি ও বিশ্বাসের কথা। অগ্নিমিত্রা পল বলেন, “রণ, বন, জলে-জঙ্গলে যখনই বিপদে পড়বে, আমাকে স্মরণ করিও—বাবা লোকনাথের এই বাণী আমার জীবনের প্রতি মুহূর্তে সত্যি হয়েছে। গত কয়েক বছরে রাজনীতিতে এসে নানা বিপদের মুখোমুখি হতে হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই বাবাই আমাকে রক্ষা করেছেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মানুষ সেবা, সহনশীলতা এবং সৎপথে চলার যে আদর্শ বাবা লোকনাথ দেখিয়ে গেছেন, তা তিনি বহু বছর আগে থেকেই নিজের জীবনে মেনে চলার চেষ্টা করছেন। ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের দিনগুলো থেকে শুরু করে আজ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়তেও—সাধারণ মানুষের সেবা করার তাগিদ সবসময় তাঁর মধ্যে বজায় ছিল। মঞ্চে চাঁদের হাট বই প্রকাশের এই বিশেষ অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। উপস্থিত ছিলেন সম্মানীয় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত, লেখিকার ঠাকুমা সবিতা দাস, উমা নায়ার, সানুদা, অভিনেতা সাহেব, ইয়াস, অভিনেত্রী রাইমা সেন, সুস্মিতা, জয় সেনগুপ্ত সহ বিশিষ্টজনেরা। বক্তব্যের শেষে লেখিকা জিতাবতী দাস এবং তাঁর পরিবারকে ভবিষ্যতের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান অগ্নিমিত্রা পল। জীবনের এই দৌড়ঝাঁপের মাঝেও দিনের শেষে যেন সাধারণ মানুষের কাজে সামান্যতম হলেও আসতে পারেন—বাবার কাছে এই প্রার্থনাই জানান তিনি।