
খড়্গপুর, আমার কলকাতা: চিঠির অপেক্ষা, ডাকপিয়নের পদধ্বনি আর প্রিয়জনের বার্তা পাওয়ার আনন্দ—একসময় বাঙালির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ডাকঘর। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সেই স্মৃতি ক্রমশ ফিকে হয়ে এলেও ডাকঘরকে ঘিরে আবেগ আজও অমলিন। হারিয়ে যাওয়া দিনের সেই নস্টালজিয়াকে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে তুলে ধরতে এ বার ‘ডাকঘর’ থিমকে বেছে নিয়েছে খড়্গপুরের গোপালী দুর্গাপুজো কমিটি। ২০২৬ সালে ৬৪তম বর্ষে পদার্পণ করেছে এই পুজো।
ডাকঘরের স্মৃতিতে ফিরবে পুরনো দিনের আবেগ
একসময় দূরের আত্মীয় কিংবা প্রিয়জনের খবর পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম ছিল চিঠি। ডাকপিয়নের অপেক্ষায় থাকা, ডাকবাক্সে চিঠি ফেলা এবং বহু প্রতীক্ষিত বার্তা হাতে পাওয়ার আনন্দ মানুষের জীবনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। মোবাইল ফোন, ই-মেল ও ইন্টারনেটের দ্রুত প্রসারে চিঠি লেখার অভ্যাস অনেকটাই কমেছে।
এই পরিবর্তনের আবহেই ডাকঘরকে কেন্দ্র করে পুরনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন গোপালীর দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তারা। তাঁদের এ বারের ভাবনায় উঠে আসছে একসময়ের পরিচিত ডাকঘর, চিঠির আদানপ্রদান এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের আবেগঘন অধ্যায়।
ঐতিহ্যের সঙ্গে নস্টালজিয়ার মেলবন্ধন
দুর্গাপুজো মানেই নতুন থিম, শিল্পভাবনা এবং দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার নানা আয়োজন। সেই ধারায় গোপালীর পুজোয় ‘ডাকঘর’ থিম অতীত ও বর্তমানের মধ্যে এক বিশেষ যোগসূত্র তৈরি করার চেষ্টা করবে। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে পুরনো যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই ভাবনার অন্যতম আকর্ষণ।
৬৪ বছরের ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে গোপালীর দুর্গোৎসব এ বার কতটা দর্শনার্থীদের মন জয় করে, এখন সেদিকেই নজর। ডাকঘরকে ঘিরে স্মৃতি, আবেগ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে খড়্গপুরের এই পুজো বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।