
আলিপুরদুয়ার | আমার কলকাতা প্রতিনিধি
ফালাকাটার উমাচরণপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেল সরকারি আবাস যোজনায় পাওয়া একটি ঘরের বেশ কিছু অংশ। আগুন নেভাতে গিয়ে জখম হয়েছেন এক প্রৌঢ়। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে একটি শুয়োরের। অপর একটি শুয়োরও জখম হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উমাচরণপুরের বাসিন্দা সাকিরাম ওরাও শ্রমিকের কাজ করেন। এদিন কর্মসূত্রে তিনি হান্টাপাড়ায় গিয়েছিলেন। সেই সময় বাড়ি থেকে ফোন করে তাঁকে জানানো হয়, কিছুদিন আগে সরকারি আবাস যোজনায় পাওয়া ঘরটিতে আগুন লেগেছে। খবর পেয়েই দ্রুত বাড়ির দিকে ফিরে আসেন সাকিরাম।
ততক্ষণে দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করেছে ঘরটি। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারাও ছুটে আসেন। আগুন নেভানোর পাশাপাশি ফালাকাটা দমকল কেন্দ্রে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের একটি ইঞ্জিন। পরে দমকলকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
জানা গিয়েছে, ওই আবাস যোজনার ঘরে এখনও পরিবারের সদস্যরা বসবাস শুরু করেননি। তবে ঘরটিতে প্রায় ২০০ আঁটি পাঠশোলার আঁটি এবং দুটি শুয়োর রাখা ছিল।
আগুন দেখতে পেয়ে সাকিরামের বাবা কাতিরাম ওরাও শুয়োর দুটিকে বাঁচাতে ঘরের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেই সময় আগুনের তাপে তিনি জখম হন। শুয়োর দুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হয়নি। একটি শুয়োর ঘটনাস্থলেই মারা যায়। অপর শুয়োরটি আগুনে জখম হয়েছে।
আগুনে জখম কাতিরাম ওরাওকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে দ্রুত মাদারিহাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে বীরপাড়া হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন বলে জানা গিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের জেরে সরকারি আবাস যোজনার ঘরটির বেশ কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছে। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
