📅   |   🕒   |   📍 কলকাতা   |   🔴 Breaking News
🔴 বাংলা থেকে বিশ্ব — খবরের শীর্ষে ‘আমার কলকাতা’।

মার্কিন নাগরিকদের টার্গেট করে প্রতারণার অভিযোগ! পাটিয়ালা ও পুনের ৩টি ভুয়ো কল সেন্টারে ED-র হানা, বাজেয়াপ্ত ৬৬টি মোবাইল

চণ্ডীগড়ে মাস্টারমাইন্ডের বাড়িতেও তল্লাশি, উদ্ধার ১৩টি ল্যাপটপ-সহ বিপুল ডিজিটাল সরঞ্জাম

আমার কলকাতা, সংবাদ প্রতিবেদন:

মার্কিন নাগরিকদের টার্গেট করে ভুয়ো কল সেন্টারের মাধ্যমে প্রতারণা ও তোলাবাজির অভিযোগে বড়সড় অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে হায়দরাবাদ জোনাল অফিসের আধিকারিকরা পাটিয়ালা, পুনে ও চণ্ডীগড়ের মোট চারটি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালান। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA), ২০০২-এর ১৭ নম্বর ধারায় এই তল্লাশি চালানো হয়।

ED-র চলমান তদন্ত এবং পরবর্তী ক্ষেত্র-পর্যায়ের যাচাইয়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, একটি গোষ্ঠী অন্যদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাটিয়ালা ও পুনেতে কল সেন্টার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করছিল। ওই কল সেন্টারগুলির মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের ফোন করে মিথ্যা অজুহাতে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

তল্লাশিতে ধরা পড়ল তিনটি সক্রিয় কল সেন্টার

তল্লাশি চলাকালীন মোট তিনটি সক্রিয় কল সেন্টারের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। এর মধ্যে দুটি পাটিয়ালায় এবং একটি পুনেতে অবস্থিত। অভিযান চলার সময় ওই তিনটি কল সেন্টারে প্রায় ২২০ জনকে কাজ করতে দেখা যায়। তাঁদের পরিচয়, কাজের ধরন এবং কার নির্দেশে তাঁরা কাজ করতেন, সেই সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত করে যাচাই করা হচ্ছে।

কল সেন্টারগুলিতে একাধিক ওয়ার্কস্টেশন, কিউবিকল, কম্পিউটার, হেডসেট, মোবাইল ফোন এবং নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, এই পরিকাঠামো ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকদের ফোন করা হতো এবং বিভিন্ন মিথ্যা অজুহাতে তাঁদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হতো বলে অভিযোগ।

প্রতারণা ও তোলাবাজির অভিযোগ, উদ্ধার ডিজিটাল তথ্য

ED-র বিবৃতি অনুযায়ী, তল্লাশির সময় পাটিয়ালার কল সেন্টারগুলিতে মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা ও তাঁদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের কার্যকলাপ চলছিল বলে অভিযোগ। কল সেন্টার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপে চক্রটির কাজের পদ্ধতি এবং প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ কীভাবে বণ্টন করা হতো, সেই সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

পুনের কল সেন্টারেও একই ধরনের প্রতারণার পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই সমস্ত ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখে প্রতারণার সম্পূর্ণ পদ্ধতি এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

চণ্ডীগড়ে মাস্টারমাইন্ডের আবাসনেও তল্লাশি

তদন্তকারীদের দাবি, চণ্ডীগড়ে তল্লাশি চালানো আবাসনটি পাটিয়ালায় পরিচালিত ভুয়ো কল সেন্টারগুলির কাজকর্ম সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হতো। সেখানে একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার হয়েছে, যাতে কল সেন্টারগুলির কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে ED।

এছাড়াও, মার্কিন ডলার থেকে ভারতীয় মুদ্রায় অর্থ রূপান্তর ও প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে, এমন এক ব্যক্তির সন্ধানও ওই আবাসনে পাওয়া যায়। তাঁর ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন বর্তমানে তদন্তের আওতায় রয়েছে।

৬৬টি মোবাইল, ১৩টি ল্যাপটপ-সহ বিপুল সামগ্রী বাজেয়াপ্ত

তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ডিজিটাল ডিভাইস, নগদ টাকা এবং নথিপত্র উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ED-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—

  • ৬৬টি মোবাইল ফোন
  • ১৩টি ল্যাপটপ
  • হার্ড ডিস্ক
  • অন্যান্য যোগাযোগের সরঞ্জাম
  • নগদ টাকা ও বিভিন্ন নথিপত্র

কীভাবে চলত প্রতারণার চক্র? খতিয়ে দেখছে ED

এই চক্রের সম্পূর্ণ কার্যপদ্ধতি জানতে একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এর মধ্যে রয়েছে ফোন করার জন্য ব্যবহৃত প্রচারাভিযান, প্রতারণার স্ক্রিপ্ট, ডায়ালার ও ভিওআইপি-ভিত্তিক প্রযুক্তি, সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের তথ্য, টাকা আদায়ের মাধ্যম এবং অর্থের লেনদেন।

পাশাপাশি, কল সেন্টারগুলির পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে কারা ছিলেন, বিভিন্ন তল্লাশির জায়গার মধ্যে কী যোগসূত্র রয়েছে এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ কোথায় কোথায় পাঠানো হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।

উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণ বিশদে পরীক্ষা করে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সমস্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা এবং অর্থের উৎস ও গতিপথ অনুসন্ধান করাই তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য। তদন্ত এখনও চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top