
নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: পরিবারের ইচ্ছা কিংবা শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে নয়, সম্মেলন ও আন্দোলনের ময়দান থেকেই নেতৃত্ব উঠে আসে। ধূপগুড়িতে সারা ভারত কৃষক সভার ৩৯তম ব্লক সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভা থেকে এই বার্তাই দিলেন বামপন্থী নেতা শতরূপ ঘোষ। একইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপিকে নিশানা করে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব হন তিনি।
মাগুরমারী-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের চৌরঙ্গী ক্লাবের মাঠে আয়োজিত সভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ তুলে কটাক্ষ করেন শতরূপ। তাঁর কথায়, ‘‘কোনও পিসি বলে দিলেন আর ভাইপো সংগঠনের মাথায় বসে গেল, আমাদের দলে এমনটা হয় না।’’ তাঁর দাবি, সম্মেলন ও দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বামেদের নেতৃত্ব তৈরি হয়।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং নতুন নাম ও প্রতীক বরাদ্দের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করেন তিনি। এ নিয়ে কটাক্ষ করে শতরূপ বলেন, ‘‘দুটো ফুলের একটা এদিকে, একটা ওদিকে দিয়ে দিলেই তো পারত!’’
নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন বাম নেতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার হন মিলন প্রধান। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে শতরূপের বক্তব্য, ‘‘আমরা নন্দীগ্রামে লড়াই করছি। প্রতিপক্ষকে জেলে ঢুকিয়ে চোরা পথে জেতার রাজনীতি আমরা করি না। সামনাসামনি লড়াইয়ে হয় জিতব, না হলে মাথা উঁচু করে হারব।’’ নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও প্রার্থীর গ্রেফতারিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজেপিকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি শতরূপ। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূলের সরকার পাল্টাক, এটা আমরা চেয়েছিলাম। কিন্তু তৃণমূলের বদলে বিজেপির সরকার আসুক, সেটা চাইনি।’’ বক্তব্যে উঠে আসে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, নারায়ণী সেনা রেজিমেন্ট এবং ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গও।
তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শাসনে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি কৃষক ও খেতমজুরদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে আন্দোলন আরও জোরদার করার এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান শতরূপ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষক সভার ব্লক সভাপতি মেহেবুব আলম। বক্তব্য রাখেন কৃষক সভার জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক প্রাণগোপাল ভাওয়াল এবং ব্লক সম্পাদক দুর্গাচরণ রায়। সম্মেলন থেকে কৃষক ও খেতমজুরদের দাবি আদায়ে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দেওয়া হয়।
রিপোর্ট: উৎপল পোদ্দার | জলপাইগুড়ি | আমার কলকাতা
