📅   |   🕒   |   📍 কলকাতা   |   🔴 Breaking News
🔴 বাংলা থেকে বিশ্ব — খবরের শীর্ষে ‘আমার কলকাতা’।

চোরবাগান দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরির ঘোষণা, তদন্তের দায়িত্বে সিট গঠনের উদ্যোগ

স্বপন কুমার মন্ডল , কলকাতা: চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজোয় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় শোকপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী । দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়ে তাঁদের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ১৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি নিজে প্রায় ১২ থেকে ১৩টি মৃতের পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কোনও গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবক, অস্থায়ী হোমগার্ড, পুলিশকর্মী কিংবা বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী—যাঁদের বিরুদ্ধেই গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তদন্তে কোনও স্তরেই গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। তবে নিরপরাধ কাউকে শুধুমাত্র লোকদেখানো পদক্ষেপের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সিট গঠনের অনুরোধ

দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে একজন বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পুজোর অনুমতি দেওয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কোনও সরকারি সংস্থা বা পুলিশের গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এই উদ্দেশ্যে অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

মৃতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা ও সরকারি চাকরি

দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মৃতের পরিবার থেকে একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অর্থ দিয়ে কোনও মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে রাজ্য সরকার এই আর্থিক সাহায্য ও চাকরির ব্যবস্থা করছে। মৃতদের মধ্যে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের সদস্য এবং পড়ুয়ারাও রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকারের

মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মোট ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং বাকি ২৪ জন বিপদমুক্ত বলে জানানো হয়েছে।

আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাজ্য সরকার নিয়েছে। চিকিৎসার পর তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক আহতকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

নিহতদের দেহ বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা

মৃতদের দেহ দ্রুত পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ময়নাতদন্তের পর দেহগুলি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজে প্রশাসন সহযোগিতা করবে।

বিহারের মুজফ্‌ফরপুরের বাসিন্দা যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের দেহও রাজ্য সরকারের প্রোটোকল আধিকারিক, পুলিশ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মৃতদেহবাহী গাড়ির মাধ্যমে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।

থিম পুজোর চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য বেশি

দুর্ঘটনার পর থিম পুজোর প্যান্ডেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, থিমের আকর্ষণ বাড়াতে প্যান্ডেলের ভিতরে অন্ধকার করে রাখার চেয়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আগামী কয়েক দিন পুজো পরিদর্শন করতে আসা দর্শনার্থীদের পুলিশ ও প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যাতে কোনও অবহেলা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন।

সরকারি কর্মসূচি স্থগিত, তবে পুজো চলবে

দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরদিনের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মসূচি-সহ রাজ্যের মন্ত্রী, বিধায়ক ও সাংসদদের নির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গাপুজো উপলক্ষে রাজ্য সরকারের সংস্কৃতি ও পর্যটন দফতরের আগামী কয়েক দিনের কর্মসূচিও স্থগিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে পুজো বন্ধ করা হচ্ছে না। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা মণ্ডপে গিয়ে প্রতিমা দর্শন এবং পুষ্পাঞ্জলি দিতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পুজো মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার সঙ্গে জড়িত, তাই সেই বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার আগামী কয়েক দিন ধরে নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকবে। এলাকার বিধায়কেরা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির কাছে পৌঁছেছেন বলেও তিনি জানান।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, নিরাপত্তার গাফিলতি চিহ্নিত করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুজোর বাকি দিনগুলিতে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top