
নয়াদিল্লি: মাদক পাচার, হাওয়ালা লেনদেন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে গৌরব দাওয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ Prevention of Money Laundering Act (PMLA), 2002-এর অধীনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে দিল্লির তিস হাজারি আদালতের বিশেষ PMLA আদালতে পেশ করা হলে আদালত পাঁচ দিনের ED হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
ED-এর তদন্ত অনুযায়ী, এই মামলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের যোগ রয়েছে। আধা-প্রক্রিয়াজাত ট্যালকের মধ্যে হেরোইন লুকিয়ে বড় পরিমাণে মাদক আমদানির অভিযোগের পাশাপাশি দিল্লি, পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় মাদক উদ্ধারের একাধিক ঘটনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
NIA-এর মামলার সূত্র ধরে ED তদন্ত
এই মামলায় National Investigation Agency (NIA)-এর দায়ের করা FIR-এর ভিত্তিতে ED তদন্ত শুরু করে। ওই FIR-এ UAPA, NDPS Act এবং IPC-র বিভিন্ন ধারায় হরপ্রীত সিং তালওয়ার-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ED জানিয়েছে, এই মামলায় NIA ইতিমধ্যেই ছয়টি চার্জশিট দাখিল করেছে। তদন্তে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।
ED-এর দাবি, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং দুবাই-ভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক চক্রের মাধ্যমে মাদক পাচার পরিচালিত হত। এই চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ‘রাজু দুবাই’ ওরফে ভিতায়স কোসারের নাম তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ED।
৭৪ কোটি টাকা হাওয়ালার অভিযোগ
তদন্তে NIA-এর পক্ষ থেকে আগে প্রায় ৭৪ কোটি টাকা মাদক বিক্রি থেকে আয়ের বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে ED জানিয়েছে। ওই অর্থ হাওয়ালার মাধ্যমে আফগানিস্তানে পাঠানো হয় এবং তা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
ED-এর তদন্তে বর্তমানে মাদক পাচার, মাদক বিক্রির অর্থ এবং হাওয়ালা লেনদেন মিলিয়ে প্রায় ৮৯ কোটি টাকার Proceeds of Crime (PoC) শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আরও অর্থের সন্ধানে তদন্ত চলছে।
দুবাই থেকে নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ
ED-এর দাবি, গৌরব দাওয়ার এবং সহ-অভিযুক্ত হরপ্রীত সিং তালওয়ার আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতেন। এর বিনিময়ে নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন সামগ্রীও তাঁদের দেওয়া হত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, দুবাই সফরের সময় গৌরব দাওয়ার ‘রাজু দুবাই’-এর কাছ থেকে একাধিকবার AED মুদ্রায় নগদ অর্থ নিয়েছিলেন।
নাইট ক্লাবে অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগ
ED-এর তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, মাদক পাচার ও হাওয়ালা থেকে আসা অর্থ বিভিন্ন ব্যবসা ও সম্পদে বিনিয়োগ করে তার উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গৌরব দাওয়ার সহ-অভিযুক্তদের সঙ্গে মিলে দিল্লির ‘Play Boy Club’ এবং ‘White Club’-এ নগদ অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। এই দুটি নাইট ক্লাব M/s Newera Feast and Hospitality Pvt Ltd (NFHPL)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হত বলে ED জানিয়েছে।
একাধিকবার তল্লাশি ED-এর
এই মামলায় PMLA-এর অধীনে একাধিক দফায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে ED। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ১৫ থেকে ১৭ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়।
ED জানিয়েছে, মাদক পাচার, হাওয়ালা এবং মানি লন্ডারিংয়ের পুরো আর্থিক নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মামলায় আরও তথ্য এবং সম্ভাব্য Proceeds of Crime শনাক্ত করতে তদন্ত এখনও চলছে।
তবে ED-এর তরফে তদন্তে উঠে আসা অভিযোগগুলিই এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
তথ্যসূত্র: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)
