
জলন্ধর: পোস্ট অফিসের সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলেন প্রাক্তন সাব-পোস্টমাস্টার সঞ্জীব কুমার। তাঁকে দেড় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে পিএমএলএ-র বিশেষ আদালত। আদালত তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে। জরিমানার টাকা দিতে না পারলে অতিরিক্ত তিন মাস জেল খাটতে হবে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণা করে মোহালির বিশেষ আদালত। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর আওতায় সঞ্জীব কুমারকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
২০১৮ সালে শুরু তদন্ত
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। সেই সময় জলন্ধর জেলার নাকোদরের দাখনি গেট পোস্ট অফিসে সাব-পোস্টমাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন সঞ্জীব কুমার।
তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থে অনিয়ম, প্রতারণা এবং নিজের পদ ব্যবহার করে আর্থিক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এফআইআর করে সিবিআই। পরে সেই মামলার সঙ্গে যুক্ত অর্থ পাচারের দিকটি খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামে ইডি।
একাধিক অ্যাকাউন্ট নিয়ে তদন্ত
ইডির তদন্তে অভিযোগ করা হয়, পোস্ট অফিসে ৫৪টি ভুয়ো সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতি করা হয় বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।
তদন্তে আরও অভিযোগ ওঠে, ৪১টি সেভিংস অ্যাকাউন্টে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ২.৭৯ কোটি টাকা সরানো হয়। পাশাপাশি ৫১টি রেকারিং ডিপোজিট বা আরডি অ্যাকাউন্টে কারচুপির অভিযোগে প্রায় ১.৮৯ কোটি টাকার হিসাব সামনে আসে।
গ্রাহকদের পিপিএফ, টার্ম ডিপোজিট-সহ বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের অ্যাকাউন্টেও অনিয়ম করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে প্রায় ৮.৪৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উঠে আসে।
ব্যক্তিগত কাজে টাকা ব্যবহারের অভিযোগ
ইডির দাবি, পোস্ট অফিস থেকে সরানো টাকা নগদে এবং একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টগুলির কিছু সঞ্জীব কুমার এবং তাঁর সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে তদন্তে দাবি করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগত খরচ, জুয়া, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং সম্পত্তি কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।
৪২ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
তদন্তের সময় প্রায় ৪২ লক্ষ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করে ইডি। ২০২৫ সালের ২ মার্চ এই সংক্রান্ত নির্দেশ জারি হয়। পরে ২০ আগস্ট সেই বাজেয়াপ্তির নির্দেশ নিশ্চিত করা হয়।
প্লি বার্গেনিংয়ের আবেদন
বিচারপর্বে সঞ্জীব কুমার প্লি বার্গেনিংয়ের মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তির আবেদন জানান। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী আদালতে আবেদনটি করা হয়।
আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা অর্থ কপুরথালা ডিভিশনের সুপারিনটেনডেন্ট অব পোস্ট অফিসেসের দফতরে জমা দিতে হবে।
বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর পিএমএলএ-র ৮(৮) ধারা এবং ২০১৬ সালের সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বিধি অনুযায়ী আবেদন করতে পারবে।
সূত্র: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)\
