
জয়সলমের: বিদেশি অনুদানের ব্যবহার নিয়ে তদন্তে জয়সলমেরে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ১৯ সেপ্টেম্বর জয়সলমেরের দু’টি জায়গায় অভিযান চালায় ED-এর জয়পুর জোনাল অফিস।
FEMA, ১৯৯৯-এর আওতায় এই অভিযান চালানো হয়। বিদেশি অর্থ গ্রহণ এবং তার ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
₹৫.১০ কোটি বিদেশি অর্থের লেনদেন
ED-এর দাবি, জয়সলমেরের বাসিন্দা দেও রাম এবং তাঁর সহযোগী জ্ঞান চাঁদ প্রায় ₹৫.১০ কোটি বিদেশি অর্থ পেয়েছেন।
তদন্তকারীদের দাবি, বেলজিয়ামের ‘Amar ASBL’ নামে একটি সংগঠন থেকে এই অর্থ এসেছে। তবে এই অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় FCRA অনুমতি ছিল না বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
বিদেশি অর্থ গ্রহণের সময় বিভিন্ন উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল শিক্ষামূলক পরিষেবা, সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কাজ এবং পারিবারিক রক্ষণাবেক্ষণ।
অর্থের ব্যবহার নিয়ে ED-এর প্রশ্ন
ED-এর তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, বিদেশি অর্থ ঘোষিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি। অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগত খরচেও ব্যবহার করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
ED-এর দাবি, দেও রাম তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ₹২.৬০ কোটি নগদে তুলে নিয়েছেন। পাশাপাশি বিদেশি অর্থের লেনদেনের জন্য যথাযথ হিসাবপত্র রাখা হয়নি বলেও অভিযোগ।
বেলজিয়ামের সংগঠনকে ঘিরে তদন্ত
ED-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘Amar ASBL’ ২০১১ সালে ব্রাসেলসে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি জোস গোফিনেট এবং তাঁর ছেলে সালিয়ান গোফিনেট পরিচালনা করেন বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে জয়সলমেরে কাজ করছে। ভারতে সংগঠনটির কোনও ট্রাস্ট বা NGO নিবন্ধিত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধার নথি ও ডিজিটাল তথ্য
তল্লাশি অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে ED জানিয়েছে।
তদন্তকারীরা ওই নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখছেন। বিদেশি অর্থের প্রকৃত উৎস এবং ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
বিদেশি অর্থ অন্য অ্যাকাউন্টে পাঠানোর চেষ্টা?
ED-এর আরও দাবি, সম্প্রতি ব্যাংকগুলি দেও রাম এবং জ্ঞান চাঁদের অ্যাকাউন্টে বিদেশি অর্থ গ্রহণে আপত্তি জানায়।
এর পর জয়সলমেরের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিদেশি অর্থ পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনায় আরও কারা যুক্ত এবং বিদেশি অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে ED। এই ঘটনায় তদন্ত এখনও চলছে।
সূত্র: ED-এর প্রকাশিত তথ্য
