
দীপঙ্কর দুলাই, মেদিনীপুর | আমার কলকাতা
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বড় রাজনৈতিক মোড়। ঘাসফুল প্রতীক হারানোর পর এবার মমতা তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-ও নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন তিনি। ফলে নন্দীগ্রামে মমতা তৃণমূলের আর কোনও প্রার্থী থাকল না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত প্রার্থী তথা শিক্ষিকা সঞ্চিতা প্রধান দে-কে ঘিরে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই দলের অন্দরে নানা প্রশ্ন উঠছিল। প্রার্থী ঘোষণা হলেও তাঁকে সেভাবে নির্বাচনী প্রচারে দেখা যায়নি। ফলে শুরু থেকেই তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
দলীয় সূত্রের দাবি, নন্দীগ্রামে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে প্রথম থেকেই আলোচনা ছিল। প্রাক্তন বিধায়ক অখিল গিরিকে প্রার্থী করার কথা ভাবা হয়েছিল। তাঁকে কালীঘাটের বাড়িতে ডেকেও পাঠানো হয়। তবে অখিল গিরি নিজে প্রার্থী না হয়ে স্থানীয় কোনও নেতাকে সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

এরপর দীর্ঘদিন ধরে আদি তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত সঞ্চিতা প্রধান দে-কে নন্দীগ্রামের প্রার্থী করা হয়। কিন্তু প্রার্থী ঘোষণার পরেও তিনি প্রচারে না নামায় দলের ভিতরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
বৃহস্পতিবার রাতে ময়দানের পিডব্লিউডি টেন্টে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সঞ্চিতা প্রধান দে-র একটি বৈঠক হয় বলে জানা যায়। এরপর শুক্রবার প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতার মধ্যে মমতা তৃণমূল ও ঋতব্রত গোষ্ঠী—দুই পক্ষেরই ঘাসফুল প্রতীক হারানোর ঘটনা সামনে আসে।
এরপরই পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্বামী সত্যজিৎ প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে সঞ্চিতা প্রধান দে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন বলে জানা গিয়েছে। সেই সাক্ষাতের পরই হলদিয়া মহকুমা দপ্তরে গিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
কেন আচমকা নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন সঞ্চিতা প্রধান দে, সেই বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি। ফলে তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহারকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
প্রতীক-সংক্রান্ত জটিলতা, প্রার্থীর প্রচারে অনুপস্থিতি এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাক্ষাৎ—এই একাধিক ঘটনাকে ঘিরেই এখন নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সঞ্চিতা প্রধান দে-র সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ কী, তা স্পষ্ট হবে তাঁর নিজের বক্তব্য সামনে এলে।
