
উৎপল পোদ্দার,শিলিগুড়ি: মাটিগাড়ায় বাংলাদেশি নাগরিক-সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আধার কার্ড তৈরির অভিযোগে এই অভিযান চালানো হয়। শুকনা আর্মি ইন্টেলিজেন্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
ঘটনাটি মাটিগাড়া থানার অন্তর্গত ১৮খালি গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্বশুরবাড়ি বাজার সংলগ্ন এলাকার।
বাড়িতে ‘আত্মীয়’ পরিচয়ে থাকার অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বাড়িতে বেশ কিছুদিন ধরেই বাইরের লোকজনের আনাগোনা ছিল। অভিযোগ, সীমান্ত পেরিয়ে আসা কয়েকজন সেখানে ‘আত্মীয়’ পরিচয়ে থাকতেন।
কেউ কাটাতার পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। আবার কেউ চিকিৎসা ভিসা বা পর্যটক ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন।
অভিযোগ, কয়েকদিন ওই বাড়িতে থাকার পর তাঁদের আধার কার্ড-সহ বিভিন্ন নথি তৈরির চেষ্টা করা হত। নথি তৈরি হয়ে গেলে তাঁরা অন্যত্র চলে যেতেন।
অভিযানে গ্রেফতার ৩
শুকনা আর্মি ইন্টেলিজেন্সের দেওয়া নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালায় মাটিগাড়া থানার পুলিশ।
অভিযানে বাংলাদেশের নীলফামারী থেকে আসা দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম লিটু মোহন্ত এবং সুশীল রায়।
এছাড়াও বাড়ির মালিক রিপন রায়ের স্ত্রী পবিত্র রানী রায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের খবর পেয়ে বাড়ির মালিক রিপন রায় পালিয়ে যান বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আধার তৈরির অভিযোগ
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আধার কার্ড তৈরি করানোর উদ্দেশ্যেই তাঁরা ওই বাড়িতে থাকছিলেন।
আধার কার্ড তৈরি হয়ে গেলে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
উদ্ধার আধার কার্ড ও একাধিক নথি
ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫টি আধার কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে ১২টি এনরোলমেন্ট ফর্ম। পাওয়া গিয়েছে ২০টি জাতিগত শংসাপত্র।
পাশাপাশি দুটি ল্যাপটপও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে তদন্ত
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জাতিগত শংসাপত্রগুলির কয়েকটি রাজগঞ্জ থেকে ইস্যু করা হয়েছে।
কয়েকটি জলপাইগুড়ি সদর মহকুমা শাসকের দফতর থেকে ইস্যু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আরও কয়েকটি শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের দফতর থেকে ইস্যু করা হয়েছে।
তবে ওই শংসাপত্রগুলি আসল নাকি জাল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বড় চক্রের যোগ রয়েছে কি?
তল্লাশির সময় জাতিগত শংসাপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত একাধিক সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে।
এরপরই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বেড়েছে। কীভাবে এই নথিগুলি তৈরি করা হত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে। বাংলাদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের আধার-সহ অন্যান্য নথি তৈরিতে আরও কোনও চক্র কাজ করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুরো ঘটনায় আরও কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে মাটিগাড়া থানার পুলিশ।