
মালদা, আমার কলকাতা প্রতিনিধি: মালদার কালিয়াচকে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পারিবারিক অশান্তির জেরে গৃহবধূকে খুন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তাঁর বাপের বাড়ির পরিবার। যদিও সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আত্মহত্যার দাবি করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ।
বিয়ের পর থেকেই চলছিল সংসার
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিয়াচকের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা বিউটি মন্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয় শাহাবাজপুর গ্রামের অভি মন্ডলের। তাঁদের ১২ বছরের একটি ছেলে এবং ৮ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। পরিবারের দাবি, বিয়ের পর প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। তবে গত কয়েক মাস ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়।
অশান্তির পরেই গৃহবধূর মৃত্যু
পরিবারের সদস্যদের দাবি, গতকালও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চরমে পৌঁছয়। এরপরই ঘটে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা। শ্বশুরবাড়ির তরফে ফোন করে বিউটি মন্ডল গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে তাঁর বাপের বাড়িতে জানানো হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সেখানে গিয়ে তাঁরা বিউটির নিথর দেহ নিচে পড়ে থাকতে দেখেন বলে দাবি।
খুনের অভিযোগ বাপের বাড়ির পরিবারের
বিউটির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির তরফে দ্রুত সৎকারের কথা বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই বিষয়টি ঘিরেই সন্দেহ আরও বাড়ে বাপের বাড়ির পরিবারের। তাঁদের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। বিউটি ফোন করে তাঁদের নিজের সমস্যার কথা জানাতেন। সেই কারণে এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ তাঁরা।
বিউটিকে তাঁর স্বামী অভি মন্ডল, শ্বশুর-শাশুড়ি-সহ পরিবারের সদস্যরা খুন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁর বাপের বাড়ির লোকজন। এই ঘটনায় কালিয়াচক থানায় অভি মন্ডল-সহ শ্বশুরবাড়ির পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
আত্মহত্যার দাবি শ্বশুরবাড়ির
অন্যদিকে, বাপের বাড়ির তরফে ওঠা খুনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভি মন্ডলের জামাইবাবু রাজকুমার মন্ডল। তাঁর দাবি, খুনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁদের ছোট মেয়েকে প্রাইভেট পড়তে পাঠানো নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম গন্ডগোল শুরু হয়। এরপর দু’জনের মধ্যে হাতাহাতিও হয় বলে দাবি তাঁর। সেই ঘটনার পর রাগ করে বিউটি দোতলার রান্নাঘরে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে দাবি করেছেন রাজকুমার মন্ডল।
তদন্তে কালিয়াচক থানার পুলিশ
গৃহবধূর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। দুই পরিবারের পরস্পরবিরোধী দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে দুই পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
বিউটি মন্ডলের মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা পুলিশি তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।
