📅   |   🕒   |   📍 কলকাতা   |   🔴 Breaking News
🔴 বাংলা থেকে বিশ্ব — খবরের শীর্ষে ‘আমার কলকাতা’।

বাড়িতেই জলবন্দি ৮৫-ঊর্ধ্ব বিধায়ক! নৌকায় চেপে মানুষের পাশে রতুয়ার সমর মুখোপাধ্যায়

মালদায় গঙ্গার ভাঙনে আতঙ্ক, জলমগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা; স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব বাসিন্দারা

নিজস্ব প্রতিনিধি,মালদা: বন্যা ও গঙ্গার ভাঙনে কার্যত বিপর্যস্ত মালদার রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। পরিস্থিতির এমনই অবনতি যে নিজের বাড়িতেই জলবন্দি হয়ে পড়েছেন ৮৫-ঊর্ধ্ব রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নৌকায় করে জলমগ্ন এলাকায় পৌঁছে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

দিনের পর দিন গঙ্গার ভাঙন এবং তার সঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। রতুয়া-১ ব্লকের কাটাহা দিয়ারা এলাকায় নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। পটলডাঙ্গা, শ্রীকান্তটোলা, আমিরচাঁদটোলা, কান্তুটোলা, মনিরামটোলা ও জিতুটোলার মতো একাধিক এলাকায় গঙ্গার ভাঙন এবং জল ঢোকার ঘটনায় সমস্যায় পড়েছেন বহু মানুষ।

গঙ্গার গতিপথের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা নদীতীরবর্তী এই এলাকার মানুষের কাছে ভাঙন নতুন কোনও ঘটনা নয়। তবে চলতি বছর ফের নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে রতুয়া-১ ব্লকের মহানন্দাটোলা এলাকায়।

আগস্ট মাসেই জিতুটোলা এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনের খবর সামনে আসে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৪০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং দুর্গতদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।

এরপরও গঙ্গার আগ্রাসন থামেনি। মহানন্দাটোলা পঞ্চায়েতের মুলিরামটোলা এলাকাতেও ভাঙন অব্যাহত থাকার খবর মিলেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো একটি শিবমন্দির গঙ্গার ভাঙনে তলিয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসে।

ভাঙনের পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। জলবন্দি মানুষের কাছে পৌঁছতে নৌকাই এখন অন্যতম ভরসা। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলতে এবং পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে জনপ্রতিনিধিরাও নৌকা ও স্পিডবোটে করে জলমগ্ন এলাকায় পৌঁছে বাসিন্দাদের সমস্যার কথা শুনছেন।

স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছে, দুর্গত এলাকায় যাতায়াত এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে প্রশাসনের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক ত্রাণের পাশাপাশি নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রতি বছর বর্ষা এলেই ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়। নদীগর্ভে চলে যায় চাষের জমি, বসতবাড়ি, এমনকি কখনও বহু পুরনো স্থাপত্যও। ফলে একদিকে গঙ্গার ভাঙন, অন্যদিকে জলবন্দি জীবন—এই দুই সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কাটাহা দিয়ারা ও মহানন্দাটোলার মানুষ।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু ত্রাণ দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। গঙ্গার ভাঙন রুখতে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসনের তৎপরতায় আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানই এখন তাঁদের প্রধান দাবি।

#আমারকলকাতা #মালদা #রতুয়া #রতুয়া১ #গঙ্গাভাঙন #মালদারবন্যা #বন্যা #নদীভাঙন #সমরমুখোপাধ্যায় #রতুয়ারবিধায়ক #কাটাহাদিয়ারা #মহানন্দাটোলা #জিতুটোলা #মুলিরামটোলা #গঙ্গা #জলবন্দিজীবন #বন্যাপরিস্থিতি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top