
রাজেন্দ্র নাথ দত্ত, মুর্শিদাবাদ: রেজিনগর উপনির্বাচনকে ঘিরে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে এবার দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর।
হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তিনি দেখা করতে চান। পাশাপাশি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
মুর্শিদাবাদে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাস ধরে তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মিথ্যা মামলা এবং গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটছে। প্রশাসনের কাছে বিষয়গুলি জানিয়েও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় তিনি দিল্লিতে গিয়ে বিষয়টি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
তিনি আরও দাবি করেন, রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলাফল তাঁর দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে না। নির্বাচনে জয় হোক বা পরাজয়—দুই ক্ষেত্রেই তিনি দিল্লি যাবেন বলে জানান।
হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য, তাঁর উদ্দেশ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া নয়। নিজের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টিকে স্বতন্ত্র রেখেই তিনি রাজনৈতিকভাবে এগোতে চান। তবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রয়োজনে অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে সমন্বয় বা জোট করার কথাও জানান তিনি।
দিল্লিতে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেনন এবং শ্রীপ্রকাশের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান হুমায়ুন। একই সফরে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগ করার কথা বলেছেন তিনি।
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, বেলডাঙা, কান্দি এবং বহরমপুরের মতো বিধানসভা এলাকায় সরকার ক্ষমতায় আসার পরও প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। তাঁর অভিযোগ, উপনির্বাচনের আগে রেজিনগরকে মডেল বিধানসভা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই কাজ কতটা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
হুমায়ুনের আরও দাবি, গত ১৮ মে নওদা ও রেজিনগরের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি জেলাশাসককে তিন পাতার একটি চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও সেই চিঠির কোনও উত্তর পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।
পুজোর মরশুমেই দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর এই সফর এবং দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।