
পানাজি: গোয়ায় জমি দখল এবং সেই সম্পত্তি থেকে বেআইনি উপায়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে বড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত সিদ্ধিক ওরফে সুলেমান খানের বিরুদ্ধে Prevention of Money Laundering Act (PMLA), 2002-এর অধীনে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিশেষ আদালতে Prosecution Complaint (PC) দাখিল করেছে ED-এর পানাজি জোনাল অফিস।
ED সূত্রে জানা গিয়েছে, গোয়া পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের Special Investigation Team (Land Grabbing)-এর দায়ের করা চারটি চার্জশিটের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি ম্যাপুসা ও ভালপোই থানায় নথিভুক্ত FIR-এর সঙ্গে যুক্ত।
তদন্তে ED-এর দাবি, সিদ্ধিক ওরফে সুলেমান খান দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, উত্তর গোয়ার মূল্যবান জমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির প্রকৃত মালিকদের সরিয়ে সেগুলি দখলের জন্য পরিকল্পিতভাবে একটি অপরাধচক্র তৈরি করা হয়।
তদন্তকারীদের মতে, জাল বিক্রয় দলিল তৈরি করে সেগুলি বারদেজ ও ভালপোইয়ের সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নথিতে ঢোকানো হয়। এই কাজে নকল স্ট্যাম্প ও সিল ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও ED-এর তদন্তে উঠে এসেছে।
ED আরও জানিয়েছে, দখল করা সম্পত্তির উপর তৈরি করা ভুয়ো দাবিকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তরা আর্থিক সুবিধা নেন। সেই অর্থ তৃতীয় পক্ষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বেনামি অ্যাকাউন্ট এবং একটি পার্টনারশিপ ফার্মের মাধ্যমে ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, দ্বিতীয় PAN ব্যবহার করে পরিচালিত ওই সংস্থার মাধ্যমে অর্থের বড় অংশ নগদে রূপান্তর করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থকে বৈধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ED-এর।
তদন্তে প্রায় ₹২৭৮ কোটি মূল্যের স্থাবর সম্পত্তিকে ‘Proceeds of Crime’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ED। PMLA, 2002-এর অধীনে ওই সম্পত্তিগুলি ইতিমধ্যেই অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত (provisionally attached) করা হয়েছে।
গত ১৬ জুলাই ২০২৬ সিদ্ধিক ওরফে সুলেমান খানকে গ্রেফতার করে ED। ED হেফাজত শেষ হওয়ার পর তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি গোয়ার কোলভালে সেন্ট্রাল জেলে রয়েছেন।
এই মামলায় উত্তর গোয়ার মার্সেসের District and Sessions Court-এর অধীন বিশেষ PMLA আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে Prosecution Complaint দাখিল করা হয়েছে। ED জানিয়েছে, মামলায় আরও তদন্ত চলছে।
Hashtags: #ED #EnforcementDirectorate #PMLA #Goa #LandGrabbing #MoneyLaundering #GoaPolice #AamarKolkata
