📅   |   🕒   |   📍 কলকাতা   |   🔴 Breaking News
🔴 Breaking News : কলকাতার সর্বশেষ খবর এখানে দেখানো হবে।

নারকো-টেরর ফান্ডিংয়ে ইডি-র বড় পদক্ষেপ: পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরে ৯টি স্থানে জোরদার তল্লাশি

নিজস্ব প্রতিবেদন: নারকো-টেরর ফান্ডিং বা মাদক পাচারের টাকায় সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে বড়সড় অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। গত ২৩ জুলাই, ২০২৬ তারিখে জম্মু ও পাঞ্জাবের মোট ৯টি স্থানে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) সংলগ্ন এলাকাগুলিতেও এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।


কী জানা যাচ্ছে ইডি সূত্রে?
ইডি-র জম্মু সাব জোনাল অফিস জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং পাঞ্জাব পুলিশের দায়ের করা মাদক সংক্রান্ত মামলার সূত্র ধরে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে পাঞ্জাব এবং জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা একটি বিশাল মাদক পাচার ও জঙ্গি অর্থায়নের নেটওয়ার্কের হদিশ মিলেছে।


তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:
১. সীমান্ত পারের যোগসূত্র: পাকিস্তান ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সহায়তায় পাকিস্তান থেকে ভারতে হেরোইন পাচার করা হত। এর সঙ্গে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন ‘হিজবুল মুজাহিদিন’-এর যোগ পাওয়া গেছে।
২. পাচারকারীদের নাম: কাশ্মীরের কুপওয়ারা এলাকার সাফীর আহমেদ ও কফিল আহমেদ অমরোহী সীমান্ত দিয়ে মাদক সংগ্রহ করত। পাঞ্জাব ভিত্তিক হ্যান্ডলার সতনাম সিং এবং মনজিৎ সিং ওরফে মান এই পুরো চক্রটি পরিচালনা করত।
৩. বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার: গত সেপ্টেম্বর ২০২৩-এ বানিহালে ৩১ কেজি হেরোইনসহ সরবজিৎ সিং এবং হানি বাসরা নামে দুই পাচারকারীকে ধরা হয়েছিল। তদন্তে জানা গেছে, ইতিপূর্বে ৬০ কেজিরও বেশি হেরোইন এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে।
৪. জালিয়াতি ও কারসাজি: পাচারের জন্য জাল নথি, গাড়ির ভুয়ো কাগজ এবং গাড়ির ভেতরে গোপন কুঠুরি ব্যবহার করা হত।


উদ্ধার হওয়া অর্থ ও নথি:
ইডি জানিয়েছে, মাদক বিক্রির এই লভ্যাংশ বা ‘প্রোসিডস অফ ক্রাইম’ সরাসরি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহার করা হত। তল্লাশি অভিযানে অভিযুক্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ নগদ জমার প্রমাণ মিলেছে। অভিযানে অনেক আপত্তিকর নথি এবং ব্যাঙ্কের তথ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রায় ৪৯.৯ লক্ষ টাকা সম্বলিত বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে এই মাদক ও জঙ্গি যোগসাজশ উপড়ে ফেলতে কেন্দ্রীয় সংস্থা আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। এই ঘটনায় আরও বড় কোনো মাথার সন্ধান পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top