
মানি লন্ডারিং মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা, তদন্তে একাধিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের দাবি
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:
মানি লন্ডারিং মামলায় প্রাক্তন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (DCP)সান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতার সিটি সেশনস কোর্টে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি প্রসিকিউশন কমপ্লেন্ট জমা দিয়েছে ED।
ED সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১০ জুলাই ২০২৬ এই অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৪ মে PMLA আইনে সান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছিল ED। বর্তমানে তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
‘সোনা পাপ্পু’ মামলার সূত্রে তদন্ত
বিস্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’ এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি সামনে আসে বলে ED জানিয়েছে।
ED-এর অভিযোগ, বেআইনি উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করে একটি সংগঠিত অপরাধ চক্র চালানো হচ্ছিল। সেই অর্থের লেনদেন নিয়েই PMLA আইনে তদন্ত শুরু হয়।
বদলি-পোস্টিং নিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
ED-এর দাবি, জয় এস কামদার নামে এক ব্যক্তি সান্তনু সিনহা বিশ্বাসের হয়ে প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশে বদলি ও পোস্টিংয়ের বিষয়েও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, পুলিশি বিষয়ে সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে উপহার ও আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছিল।
সম্পত্তি নিয়ে ED-র দাবি
ED জানিয়েছে, মুর্শিদাবাদের কান্দিতে একটি সম্পত্তির নির্মাণ ও সংস্কারের কাজে অপরাধলব্ধ অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এছাড়াও কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় একাধিক সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে বলে ED দাবি করেছে। তদন্তে প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকার আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের কথাও জানানো হয়েছে।
একাধিক জায়গায় তল্লাশি
এই মামলায় চলতি বছরের ১ এপ্রিল, ১৯ এপ্রিল এবং ২৬ এপ্রিল কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল ED।
তল্লাশিতে গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়া গিয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে।
এই মামলায় জয় কামদার ও বিস্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
ED জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলছে।