📅   |   🕒   |   📍 কলকাতা   |   🔴 Breaking News
🔴 বাংলা থেকে বিশ্ব — খবরের শীর্ষে ‘আমার কলকাতা’।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সেপ্টেম্বরজুড়ে বিশেষ নজর, ১৪৮ জন সক্রিয় রোগী: মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের মোকাবিলায় সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে বিশেষ নজরদারি এবং একাধিক পদক্ষেপের কথা জানাল রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যে ১৪৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৫০ শতাংশেরও কম বলে দাবি তাঁর।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত বছর এই সময় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭,৬০০-র বেশি। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত গোটা বছরে ৪,০০০-র বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। তবে এই মুহূর্তে সক্রিয় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১৪৮ জন।

তিনি জানান, মুর্শিদাবাদের নবদাঁ থানার আমতলা এলাকায় ৯ জন এবং নদিয়ার চাকদহে ১১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রয়েছেন। কলকাতা পুরসভার ৬১টি ওয়ার্ডে এখনও কোনও ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর নেই। মাত্র ১২টি ওয়ার্ডে কয়েকজন করে আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখনই আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই বলে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ডেঙ্গুর মরশুম এখনও শেষ হয়নি। সেপ্টেম্বর মাস এবং অন্তত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্য দপ্তরকে নভেম্বর পর্যন্ত নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

জ্বর হলে অবহেলা নয়, বিনামূল্যে পরীক্ষার নির্দেশ

ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে আশাকর্মীদের আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দু’দিনের বেশি জ্বর থাকলে অথবা অত্যধিক জ্বর হলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। পর্যাপ্ত টেস্টিং কিট স্বাস্থ্য দপ্তরের হাতে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের বাড়ির আশপাশে লার্ভা ধ্বংসের জন্য লার্ভিসাইড ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া ব্যাপকভাবে ফগিং না করে নির্দিষ্ট আক্রান্ত এলাকায় চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে সীমিতভাবে ফগিং করার কথা বলা হয়েছে।

অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল বা বস্তি এলাকায় আক্রান্তের সন্ধান মিললে পুরসভা বা মিউনিসিপ্যালিটির নিজস্ব তহবিল থেকে মশারি কিনে পুলিশের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর বিশেষ সাফাই অভিযান

মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় কলকাতা-সহ কেএমডিএ এলাকার একাধিক পুরসভায় বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৩, ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিশেষ ক্লিনিং ড্রাইভ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই অভিযানে পুরসভা, পুলিশ এবং এনজিও-সহ বিভিন্ন সংস্থাকে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রতীকীভাবে নয়, সর্বাত্মকভাবে এলাকা পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পর্যালোচনা বৈঠকে স্বাস্থ্য দপ্তরের পাশাপাশি ইউডিএমএ, পরিবহণ, সেচ ও জলপথ, কলকাতা পুরসভা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা ছিলেন। বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকরাও বৈঠকে অংশ নেন। কিছু প্রশাসনিক বৈঠক ভার্চুয়াল মাধ্যমেও হয়।

পরিবহণ দপ্তরের বিভিন্ন বাস ডিপোতে জমে থাকা জল, পুরনো টায়ার ও আবর্জনা পরিষ্কারের বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেট্রো রেল এবং আরবিএনএলের বিভিন্ন ইউনিটকেও জল জমে থাকা জায়গা পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুরসভাগুলির কাজ নিয়েও কড়া নজর

কলকাতা ও বৃহত্তর কলকাতা এলাকার যেসব পুরসভায় প্রশাসনিক ও পরিষেবা সংক্রান্ত কাজ এখনও পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি, সেগুলির কাজ দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

ইন-সার্ভিস WBCS অফিসারদের এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বাকি পুরসভাগুলিকেও দ্রুত এর আওতায় আনার জন্য মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আয়ুষ্মান ভারতে ১৯,৭০০-র বেশি মানুষ পরিষেবা পেয়েছেন

ডেঙ্গুর পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৬ আগস্ট আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য প্রকল্প চালুর পর এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৯,৭০০ জন উপকৃত হয়েছেন।

এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা দেশের অন্য রাজ্যেও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ডে প্রায় ৪৫০ জন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এই পরিষেবা নিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী কয়েকজন উপভোক্তার সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথাও বলেন। তাঁদের মধ্যে সোনারপুরের গোপাল মণ্ডল আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের মাধ্যমে দিশান হাসপাতালে প্রায় ১ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকার হৃদযন্ত্রের চিকিৎসা করিয়েছেন বলে জানান। বীরভূমের চার বছরের শিশু ফারান আলীর অস্ত্রোপচারে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হলেও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে সেই চিকিৎসা হয়েছে বলে জানানো হয়।

“রোগ হলে চিহ্নিত করতে হবে, ভয় পাওয়ার কারণ নেই”

ডেঙ্গুর সংখ্যা নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর প্রয়োজন নেই বলে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রোগের প্রকৃত সংখ্যা গোপন না করে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ডেঙ্গু হলে তা রিপোর্ট করতে কোনও ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে বাড়বে, কিন্তু রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও স্বাস্থ্য দপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ম্যালেরিয়া নিয়েও আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় আগামী দিনেও আরও আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পুজোর আগে পর্যটনকেন্দ্রগুলির লজ সংস্কারের নির্দেশ

পুজোর ছুটিতে রাজ্যের মানুষ যাতে পরিবার নিয়ে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যেতে পারেন, সেজন্য পর্যটন দপ্তরের প্রায় ৪০টি লজ দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। জঙ্গল ও বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় থাকা লজগুলিকে পুজোর আগেই থাকার উপযোগী করে তোলার কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, পুজোর ছুটিতে বাঙালি পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাবেন, আনন্দ করবেন—তাঁদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের।

#ডেঙ্গু #Dengue #WestBengal #Kolkata #DengueControl #DengueAwareness #AayushmanBharat #Swasthya #WestBengalGovernment #AamarKolkata

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top