
মালদা , আমার কলকাতা প্রতিনিধি : দুর্গাপুজোর এখনও প্রায় ১২ দিন বাকি। তার আগেই কৃষ্ণনবমীর তিথিতে শুরু হয়ে গেল চাঁচল রাজবাড়ির পুজো। মালদার চাঁচল থেকে প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে পাহাড়পুরের চণ্ডীমণ্ডপে শুরু হয়েছে দেবীর আরাধনা।
কৃষ্ণনবমীর সকালে মরা মহানন্দার সতীঘাট থেকে তামার কলসে জল আনা হয়। এরপর সেই জল দিয়ে ঘট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হয় পুজোর আচার। পুরোহিত সৌমিত্র চক্রবর্তী, অচিন্ত মিশ্র, টিটু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে সম্পন্ন হয় প্রাথমিক পুজোর নিয়ম।
ষষ্ঠীতে চণ্ডীমণ্ডপে আসবে দেবীর মূর্তি
ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় পাহাড়পুরের চণ্ডীমণ্ডপে নিয়ে আসা হবে দেবীর মূর্তি। তার আগে পর্যন্ত প্রতিদিন নিয়ম মেনে ঘটেই চলবে পুজো।
পুজোর পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যায় হবে চণ্ডীপাঠ। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত এই রীতি চলবে। বিসর্জনের আগে পর্যন্ত থাকবে বিশেষ পুজোর আয়োজন।
পাহাড়পুরের চণ্ডীমণ্ডপের দেবী চতুর্ভুজা সিংহবাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও আবেগ।
৩৭৫ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্য
কথিত আছে, চাঁচলের রাজা রামচন্দ্র রায় চৌধুরীর হাত ধরে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। প্রায় ৩৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নানা রীতিনীতি মেনে চলে আসছে এই পুজো।
চাঁচল রাজবাড়ির পুজো হিসেবেই পরিচিত পাহাড়পুরের এই ঐতিহ্যবাহী পুজো। বছরের পর বছর ধরে এই পুজোকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের আগ্রহও রয়েছে।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, পাহাড়পুর চণ্ডীমণ্ডপের দেবী গোটা এলাকাকে সুরক্ষা দেন। সেই বিশ্বাস থেকেই পুজোর দিনগুলিতে চাঁচল ও আশপাশের এলাকার বহু মানুষ চণ্ডীমণ্ডপে হাজির হন।
রাজবাড়ি নেই, টিকে রয়েছে পুজোর ঐতিহ্য
সময় বদলেছে। নেই রাজা, নেই রাজপাট। বিক্রি হয়ে গিয়েছে রাজবাড়িও। কিন্তু এখনও টিকে রয়েছে চাঁচল রাজবাড়ির পুজো।
বর্তমানে ট্রাস্টি বোর্ডের তরফে পুজোর জন্য বরাদ্দ মাত্র ৯ হাজার টাকা। ফলে পুজোর আয়োজনের বড় দায়িত্ব নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাই।
পাহাড়পুর, গিলাবাড়ি-সহ চাঁচলের সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এখনও আয়োজন করা হয় এই প্রাচীন পুজো। স্থানীয় মানুষের আর্থিক সাহায্য ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই বজায় রয়েছে পুজোর ঐতিহ্য।
রাজপরিবারের পুরনো জৌলুস নেই। নেই আগের রাজকীয় আয়োজনও। তবে মানুষের বিশ্বাস, নিষ্ঠা এবং আবেগে আজও অমলিন পাহাড়পুর চণ্ডীমণ্ডপের পুজো।
Malda