
গোসাবা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা | আমার কলকাতা
রাতের অন্ধকারে রাস্তায় টর্চ নিয়ে গরু পাহারা দেওয়ার নামে গরু পরিবহণে বাধা এবং তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন গোসাবার বিজেপি বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর। তাঁর বক্তব্য, গরু পরিবহণের ক্ষেত্রে বৈধ কাগজপত্র থাকলে অযথা বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই। বেআইনি বাধাদান বা তোলাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বিকর্ণ নস্কর বলেন, রাত একটা-দুটোর সময় রাস্তায় টর্চ নিয়ে দাঁড়িয়ে ‘গরু চৌকি’ দেওয়ার কোনও দায়িত্ব সাধারণ মানুষকে সরকার বা প্রশাসন দেয়নি। কোনও বেআইনি ঘটনা নজরে এলে সরাসরি থানায় বা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, গরু পাহারা দেওয়ার নাম করে কেউ কেউ গরু পরিবহণকারীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা বা ১ হাজার টাকা নিয়ে গরু পার করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই ধরনের কাজকে তিনি ‘গরুর দালালি’ বলে উল্লেখ করে সতর্ক করেন, এমন অভিযোগ সামনে এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিধায়ক আরও বলেন, গরু কেনা বা পরিবহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উপযুক্ত কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। বৈধ নথি ছাড়া গরু পরিবহণ করা হলে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও তিনি জানান।
পাশাপাশি পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধেও সরব হন বিকর্ণ নস্কর। তাঁর বক্তব্য, গরুর চার পা বেঁধে, মারধর করে বা অমানবিকভাবে পরিবহণ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পশু-নির্যাতন সংক্রান্ত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিকর্ণ নস্করের কথায়, পশুরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তাই গরু পরিবহণের ক্ষেত্রে যেমন বৈধ নথিপত্র থাকা জরুরি, তেমনই পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ করাও জরুরি।
সব পক্ষকে সতর্ক করে গোসাবার বিধায়কের বার্তা, গরু পাহারা দেওয়ার নামে রাস্তায় নেমে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। কোনও বেআইনি ঘটনা ঘটলে থানায় অভিযোগ জানাতে হবে। একইসঙ্গে গরু পরিবহণকারীদেরও সমস্ত বৈধ নথিপত্র সঙ্গে রেখে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
বিকর্ণ নস্করের বক্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
