
দীপক চৌধুরী | মেদিনীপুর
ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়াতে মানবিক উদ্যোগ। পশ্চিম মেদিনীপুর অপরাজেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্রনগরে লায়ন্স ক্লাবের প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হল পঞ্চম চুলদান কর্মসূচি। রবিবার, ২৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের জন্য চুল দান করেন ৯২ জন মহিলা।
বিগত চার বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও আয়োজিত হয় এই বিশেষ কর্মসূচি। ‘আশা ভোঁসলে মঞ্চে’ প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন অপরাজেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার তথা বিশিষ্ট স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ড. মঙ্গলপ্রসাদ মল্লিক-সহ অন্যান্য অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁতিগেড়িয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার পাহাড়ী, নাড়াজোল গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা পলি পাহাড়ী, সমাজকর্মী ও শিক্ষক বিপ্লব আর্য, প্রাক্তন শিক্ষক সুদর্শন দে, সমাজকর্মী পঙ্কজ পাত্র, শিক্ষক নীলমণি মণ্ডল, শিক্ষক চণ্ডীচরণ রাউত, শিক্ষক ও সঙ্গীতশিল্পী দীপেশ দে, শিক্ষক প্রদীপ মাহাত, শিক্ষক দীপক চৌধুরী, শিক্ষক খোকন বাগরা, শিক্ষক উত্তম সাহা-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সহ-সভাপতি শিউলি দাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষক তরুণ কুমার মণ্ডল। সংগঠনের সভাপতি, সম্পাদক-সহ সদস্য-সদস্যা এবং সংগঠনের শুভানুধ্যায়ীরাও উপস্থিত ছিলেন।
চুলদাতাদের উত্তরীয় ও ব্যাজ পরিয়ে সম্মান জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক চুলদাতার হাতে তুলে দেওয়া হয় শংসাপত্র, একটি গাছ এবং ছোট উপহার। অনুষ্ঠানে অতিথিরা চুলদান কর্মসূচির সামাজিক গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
জীবনানন্দ দাশের কবিতার সেই বিখ্যাত পঙ্ক্তি— “চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা”—চুল মানুষের সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক। সেই সৌন্দর্যের অংশই যখন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের মুখে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার কাজে ব্যবহার হয়, তখন তা হয়ে ওঠে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
গান, কবিতা ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পঞ্চম চুলদান কর্মসূচি। আগামী দিনেও আরও মানুষ এই ধরনের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসবেন, এমনই প্রত্যাশা আয়োজকদের।