📅   |   🕒   |   📍 কলকাতা   |   🔴 Breaking News
🔴 Breaking News : কলকাতার সর্বশেষ খবর এখানে দেখানো হবে।

পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে ১,৬১০ কোটি বরাদ্দ, পিছিয়ে থাকা ব্লকগুলিতে বিশেষ নজর: শুভেন্দু অধিকারী

তিন মাসের রোডম্যাপ তৈরি, পুজোর পর শুরু হবে উন্নয়নমূলক কাজ; স্বচ্ছ নিয়োগ ও সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও একাধিক বার্তা

বাঁকুড়া: পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে আগামী দিনে আরও জোর দেওয়ার কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাঁকুড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে থাকা এলাকাগুলিতে পরিকাঠামো, সামাজিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে গ্রামীণ এলাকার মোট ৭৬টি ব্লক রয়েছে। পিছিয়ে থাকা গ্রামগুলিকে চিহ্নিত করে সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কাজ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তিন মাসের রোডম্যাপ

বাঁকুড়ার বৈঠকে বিধায়ক, মন্ত্রী, জেলাশাসক, বিডিও, দপ্তরের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আগামী তিন মাসের একটি রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে প্রকল্প চিহ্নিতকরণ, স্কিম তৈরি এবং ডিপিআর তৈরির কাজ করা হবে। এরপর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুজোর পর শুকনো মরশুমে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।

১,৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি

শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, আট মাসের জন্য পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় মোট ১,৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন সংক্রান্ত খাতে এবং প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকা পরিকল্পনা খাতে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্য, মার্চ মাসের মধ্যে বরাদ্দ অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে জঙ্গলমহলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করা হবে।

আবাস, আয়ুষ্মান, জল জীবন ও সূর্যঘর প্রকল্পে জোর

সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্যবিমা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন এবং প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর প্রকল্পের প্রসঙ্গ।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ইতিমধ্যে ২৫ লক্ষ বাড়ির নাম নথিভুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আরও যোগ্য উপভোক্তা থাকলে তাঁদের চিহ্নিত করে আবাসের সুবিধা দেওয়ার কথাও জানান।

প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর প্রকল্পে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪,৫০০ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। কেন্দ্রের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি রাজ্যে আরও বেশি বাড়িকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও বলেন।

স্কুল ও ICDS কেন্দ্রের পরিকাঠামোয় গুরুত্ব

পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের অগ্রাধিকারের তালিকায় ICDS কেন্দ্র, প্রাথমিক স্কুল, স্কুলের শৌচাগার, কিচেন, ডাইনিং স্পেস এবং পানীয় জলের মতো পরিকাঠামোর কথা উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী।

এলাকার গরমের কথা মাথায় রেখে স্কুলগুলিতে ফ্যান দেওয়ার বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিয়োগে স্বচ্ছতার বার্তা

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সরকারি নিয়োগ প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধাকে গুরুত্ব দেবে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের মূল দায়িত্ব হল ক্যাবিনেটে চাকরি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া, সেই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা এবং অর্থ দপ্তরের মঞ্জুরি দেওয়া। নিয়োগের মূল প্রক্রিয়ায় সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে মন্ত্রী ও বিধায়কদের উপস্থিতিতে চাকরিপ্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।

SIR নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে কী বললেন?

SIR-এ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যাঁদের নাম তালিকায় নেই, তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের CAA-র মাধ্যমে আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রেশন, অন্নপূর্ণা, বয়স্ক ভাতা-সহ সরকারি অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

FCRA নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

FCRA প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু অধিকারী বিদেশি অর্থের অপব্যবহার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে মৌলবাদী বা র‍্যাডিক্যাল গোষ্ঠীর কার্যকলাপ নিয়ে অভিযোগ তোলেন।

বাঁকুড়া ও জঙ্গলমহল এলাকায় বিদেশি অর্থ ব্যবহার করে আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের ধর্ম পরিবর্তনের চেষ্টা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এগুলি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ—এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনও প্রমাণ বা নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ তিনি করেননি।

UCC ও ধর্মান্তর রোধের আইন আনার ইঙ্গিত

আগামী দিনে UCC কার্যকর করার পাশাপাশি ধর্ম পরিবর্তন এবং জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে নতুন আইন আনার ইঙ্গিতও দেন শুভেন্দু অধিকারী। বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে কেশপুরের মহবনিতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের শপথ নিয়েই তিনি সেখান থেকে রওনা হচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top