
স্বপন কুমার; আমার কলকাতা:
বীরভূমে অবৈধ পাথর খাদান ও আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে চলা অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, সোনা, বিলাসবহুল গাড়ি এবং স্থাবর সম্পত্তির হদিস মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে “প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি” বলে অভিহিত করেছেন।
অভিযানে মিনার মন্ডল নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নগদ অর্থ, সোনা ও অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া, নিজামুদ্দিন মন্ডল (ওরফে তুলু মন্ডল)-এর বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে আরও ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ, সোনা ও রূপার অলঙ্কারও উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযানে ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার-সহ মোট ২৪২টি যানবাহন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত হওয়া গাড়িগুলির মধ্যে Audi ও BMW-এর মতো একাধিক বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্তে মোট ২১টি স্থাবর সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭টি বাড়ি, ১টি ফার্মহাউস, ২টি পেট্রোল পাম্প, একাধিক পাথর খাদান এবং প্রায় ৩০০ বিঘা জমি, যা বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, শুধুমাত্র বীরভূম জেলা থেকেই পাথর ও সংশ্লিষ্ট খাতে প্রতি বছর প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা।
তিনি আরও বলেন, সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলেই এই ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও একই ধরনের অভিযান চালালে আরও বড় দুর্নীতির চিত্র সামনে আসতে পারে।
এই ঘটনায় মিনার মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি আরও ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া নথি ও আর্থিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই গোটা ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।