
আমার কলকাতা ডিজিটাল ডেস্ক: উপকূলীয় উন্নয়ন, মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জেলেদের পরিবারের পুনর্বাসনে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের সাগরমালা প্রকল্পকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। পাশাপাশি সমুদ্রে দুর্ঘটনায় মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা, চাকরি, আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সাগরমালা প্রকল্পে উপকূলের উন্নয়ন
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাগরমালা প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় বন্দর-সংক্রান্ত পরিকাঠামো, মৎস্য বন্দর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য সরকার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উপকূলবর্তী অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে জোর দেবে।
মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের জন্য চাকরি
তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মৎস্যজীবীদের পরিবারকে শুধু আর্থিক সহায়তা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। পরিবারের যোগ্য সদস্যদের হোম গার্ড বা সিভিক ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে ₹৫ লক্ষ করে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
উড়িষ্যার মৎস্যজীবীদের জন্যও আর্থিক সহায়তা
সমুদ্রে দুর্ঘটনায় নিহত উড়িষ্যার তিন মৎস্যজীবীর পরিবারকেও মানবিক কারণে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা না হওয়ায় সরকারি চাকরির সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
নিরাপত্তায় আধুনিক ব্যবস্থা
মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা বাড়াতে উপকূলে আধুনিক কন্ট্রোল রুম, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক বোট এবং প্রশিক্ষিত পুলিশ মোতায়েনের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
দিঘায় বিশেষ উদ্ধারকারী বাহিনী
দিঘার জন্য SDRF-এর অধীনে ৫০ সদস্যের বিশেষ উদ্ধারকারী দল গঠন করা হবে। আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত এই দল সমুদ্রে দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাবে।
বিধবা ও পড়ুয়াদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা
মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের বিধবাদের অন্নপূর্ণা যোজনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ১৮ বছর পর্যন্ত সন্তানদের মিশন বাৎসল্য প্রকল্পের আওতায় মাসিক ₹৪,০০০ করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।