
কলকাতা: বাংলার চলচ্চিত্র জগতের চিরকালীন ধ্রুবতারা, মহানায়ক উত্তম কুমারের ৪৭তম প্রয়াণ দিবসে তিলোত্তমা কলকাতা এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল। আজ কেওড়াতলা মহাশ্মশানের পুণ্যভূমিতে মহানায়কের এক সুদৃশ্য মূর্তির আবরণ উন্মোচন করা হয়। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ বিশিষ্ট মন্ত্রী ও চলচ্চিত্র জগতের গুণীজনেরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিল্পীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই কালজয়ী গান— ‘তবু মনে রেখো’। মহানায়কের ‘অগ্নিশ্বর’ ছবিতে ব্যবহৃত এই গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মূর্তি উন্মোচনের মধ্য দিয়ে মহানায়কের স্মৃতিকে নতুন করে উজ্জ্বল করে তোলা হয় এদিন।
মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী ডঃ স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী শ্রী তাপস রায়, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের রাষ্ট্র মন্ত্রী শ্রীমতী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, বিশিষ্ট অভিনেত্রী শ্রীমতী রূপা গাঙ্গুলী, পাপিয়া অধিকারী, বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ এবং অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।
মহানায়কের পরিবারের পক্ষ থেকে মহুয়া অধিকারী সহ অন্যান্য সদস্যরাও এই স্মরণসভায় যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহানায়কের স্মৃতি রক্ষার্থে এবং বাংলার চলচ্চিত্রের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, আগামী ৩রা সেপ্টেম্বর থেকে ৬ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মহানায়কের জন্মশতবর্ষ অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করা হবে। পাশাপাশি কলকাতায় মহানায়কের নামে একটি অত্যাধুনিক ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’ গড়ে তোলা হবে এবং কলকাতা পৌরসভা পরিচালিত ঐতিহাসিক ‘উত্তম মঞ্চ’-কে সম্পূর্ণ আধুনিক ও বিশ্বমানের করে তোলার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার।
রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বাংলার সংস্কৃতির ধারক ও বাহক উত্তম কুমারকে যোগ্য সম্মান জানানোই সরকারের মূল লক্ষ্য। বাংলার চলচ্চিত্র জগত আবারও তার পুরনো গরিমা ফিরে পাক এবং মহানায়কের আদর্শে নতুন প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হোক— এই অঙ্গীকারের মধ্য দিয়েই এদিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। মহানায়কের স্মৃতিকে ডিজিটাল ও আধুনিক রূপান্তরের মাধ্যমে বাঙালির হৃদয়ে চিরস্থায়ী করাই হবে তিলোত্তমার আসল শ্রদ্ধাঞ্জলি।