📅   |   🕒   |   📍 কলকাতা   |   🔴 Breaking News
🔴 বাংলা থেকে বিশ্ব — খবরের শীর্ষে ‘আমার কলকাতা’।

শিলিগুড়ির কিরণচন্দ্র শ্মশানে তিনটি চুল্লির মধ্যে চালু মাত্র একটি, দীর্ঘ অপেক্ষায় মৃতের পরিবার

শিলিগুড়ি, আমার কলকাতা: প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। সকালে মৃতদেহ নিয়ে শ্মশানে পৌঁছেও দাহকার্যের সুযোগ মিলছে দুপুরে। শিলিগুড়ির কিরণচন্দ্র শ্মশানের পরিষেবা ঘিরে এমনই অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। শোকের মুহূর্তে এই দীর্ঘ অপেক্ষা একদিকে যেমন মৃতের পরিবারগুলির দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে শ্মশানের পরিকাঠামো ও যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তিনটি চুল্লির মধ্যে চালু মাত্র একটি

শ্মশানে আসা একাধিক পরিবারের অভিযোগ, সেখানে থাকা তিনটি চুল্লির মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি চালু রয়েছে। ফলে দাহকার্যের জন্য অপেক্ষমাণ মৃতদেহের সংখ্যা বাড়ছে। অভিযোগ, সকালে শ্মশানে পৌঁছেও কোনও কোনও পরিবারকে দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না পেরে এক ব্যক্তি মৃতদেহ নিয়ে অন্য শ্মশানে চলে গিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে চুল্লিগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিকল্প ব্যবস্থা রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, শ্মশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবায় যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত মেরামতির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে না হয়।

শোকের মুহূর্তে বাড়ছে পরিবারের দুর্ভোগ

পরিবারগুলির বক্তব্য, প্রিয়জনকে হারানোর পর তাঁরা এমনিতেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন। তার উপর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। বিশেষ করে দূরদূরান্ত থেকে মৃতদেহ নিয়ে আসা পরিবারগুলির ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষা বাড়তি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

তাই দ্রুত বিকল চুল্লিগুলি মেরামত করে স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে শ্মশানের যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মেরামতির অপেক্ষায় বিকল চুল্লি, জানালেন শ্মশানকর্মী

অন্যদিকে, শ্মশানের এক কর্মীর বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে মোট তিনটি চুল্লি রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে একটি চালু রয়েছে এবং বাকি চুল্লিগুলির মেরামতির প্রয়োজন হয়েছে। একটি চুল্লি মেরামতের জন্য কলকাতা থেকে বিশেষজ্ঞদের আসার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, নতুন তৃতীয় চুল্লিতেও যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। দাহকার্যের সময় মৃতদেহ নির্দিষ্ট স্থানে আটকে না থেকে ট্রলির সঙ্গে বাইরে চলে আসার আশঙ্কা থাকায় সেটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মী।

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সমস্যা

শ্মশানকর্মীর দাবি, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এই সমস্যা চলছে। বিকল চুল্লিগুলি মেরামতের কাজ চলছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ তিনটি চুল্লিই পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি।

ফলে আপাতত একটি চুল্লির উপর নির্ভর করেই চলছে দাহকার্য। শিলিগুড়ির গুরুত্বপূর্ণ এই শ্মশানে পরিষেবা স্বাভাবিক করতে মেরামতির কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top