
রাজেন্দ্র নাথ দত্ত, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের সালারে পুলিশি অভিযানের সময় বোমা হামলার অভিযোগের তদন্তে বড়সড় পদক্ষেপ পুলিশের। বাগডোগরা থেকে ফায়জল শেখ নামে এক সেনা জওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ফায়জল ভারতীয় সেনার ৭২ আর্টিলারি রেজিমেন্টে আর্মি নায়েক পদে কর্মরত। বর্তমানে তাঁর পোস্টিং অরুণাচল প্রদেশে।
পুলিশের দাবি, সালার থানায় নথিভুক্ত একাধিক মামলায় ফায়জল শেখের নাম রয়েছে। বোমা হামলার এই মামলায় তাঁর গ্রেফতারের পর এখনও পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৩-১৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে খাঁড়েরা গ্রামের একটি জুয়ার আসরে অভিযান চালায় সালার থানার পুলিশ। পুলিশ সেখানে পৌঁছনোর পর কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, সেই সময় পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। বিস্ফোরণে সালার থানার এএসআই সাদেক আলি-সহ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন। পরে এএসআই সাদেক আলিকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
বাগডোগরায় পুলিশের অভিযান
ঘটনার পর থেকেই ফায়জল শেখের সন্ধানে তদন্ত চালাচ্ছিল পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর বাগডোগরায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ভরতপুরের এসডিপিও বরুণ বৈদ্য জানান, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফায়জল শেখকে কান্দি মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে একাধিক বিষয়
বোমা হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত বোমাগুলি কোথা থেকে এসেছিল, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিল কি না এবং খাঁড়েরা গ্রামের ওই জুয়ার আসরের সঙ্গে অন্য কোনও অপরাধমূলক কার্যকলাপের যোগ রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য তথ্য ও সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়েও তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
উল্লেখ্য: প্রতিবেদনে উল্লেখিত বোমা হামলা ও অন্যান্য অভিযোগ পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে না।
মুর্শিদাবাদ