📅   |   🕒   |   📍 কলকাতা   |   🔴 Breaking News
🔴 বাংলা থেকে বিশ্ব — খবরের শীর্ষে ‘আমার কলকাতা’।

গুয়াহাটিতে ৩৭ কেজির বেশি সোনা, মূল্য ৫৪ কোটিরও বেশি

গুয়াহাটি, আমার কলকাতা: গুয়াহাটিতে ৩৭.০৬৪ কেজি সোনা অ্যাটাচ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তদন্তকারী সংস্থার হিসাবে, ওই সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৪ কোটি টাকারও বেশি। ২০০২ সালের Prevention of Money Laundering Act (PMLA)-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ED-এর তথ্য অনুযায়ী, অ্যাটাচ করা সোনার মধ্যে রয়েছে ২৯টি বড় সোনার বার এবং ৫০টি ছোট সোনার টুকরো। এছাড়াও প্রায় ১৩ গ্রাম রুপোলি রঙের ধাতব ফ্লেক পাওয়া গিয়েছে। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া সোনা গুয়াহাটির কামরূপ মেট্রো ট্রেজারিতে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

৩০ জুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত

ED জানিয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬ গুয়াহাটির খারঘুলি হাতিশিল এলাকায় অসম পুলিশ আকশ্য পরশুরাম বানসোদের কাছ থেকে সোনা উদ্ধার করেছিল। ওই ঘটনার পর সোনা পাচার এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে ED।

এই মামলায় বানসোদের পাশাপাশি আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কুরিয়ার নেটওয়ার্ক নিয়ে ED-এর দাবি

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বানসোদে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সোনা পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ED-এর বক্তব্য অনুযায়ী, একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির নির্দেশে তিনি একটি কুরিয়ার নেটওয়ার্কের হয়ে কাজ করতেন।

এর পরিবর্তে তাঁকে মাসিক পারিশ্রমিক দেওয়া হত বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে ED জানিয়েছে। কুরিয়ারদের পরিচয় নির্ধারণে একটি কোড-ভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহারের তথ্যও তদন্তে সামনে এসেছে বলে সংস্থার দাবি।

মায়ানমার ও UAE রুটের সম্ভাবনা

ED-এর তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া সোনা মায়ানমার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) হয়ে ভারতে প্রবেশ করে থাকতে পারে। এই সোনার অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে হাওলা চ্যানেল ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও তদন্তকারী সংস্থার দাবি।

তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে, পরে সোনার উৎসকে বৈধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। এজন্য কয়েকজন ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ইনভয়েস তৈরি করা হয়েছিল বলে ED জানিয়েছে।

ইনভয়েস নিয়ে আদালতে প্রশ্ন

উদ্ধার হওয়া সোনার মালিকানা দাবি করে কয়েকটি ইনভয়েস জমা দেওয়া হয়েছিল বলে ED-এর বক্তব্য। তবে তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সংশ্লিষ্ট আদালত প্রাথমিকভাবে ওই নথিগুলিকে জাল বলে বিবেচনা করে সোনা ছেড়ে দেওয়ার আবেদন খারিজ করে।

ED আরও জানিয়েছে, সোনার বৈধ মালিকানা বা আমদানির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি দেখানো যায়নি। বিশেষ করে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং আমদানি সংক্রান্ত নথির বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পেয়েছে।

আর্থিক লেনদেনের দিকও খতিয়ে দেখছে ED

সোনা কীভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল, এর সঙ্গে কারা যুক্ত এবং সোনা কেনাবেচার পিছনে কী ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছিল—এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোনা পরিবহণের নেটওয়ার্ক, সম্ভাব্য হাওলা লেনদেন এবং সোনার প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে ED। PMLA-র অধীনে এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top