
শিলিগুড়ি , আমার কলকাতা : খাবারের মধ্যে প্লাস্টিকজাতীয় বস্তু পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়িতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শহরের অন্যতম পরিচিত মিষ্টির দোকান ‘মাখন ভোগ’-এর দোসার মধ্যে প্লাস্টিকের টুকরো পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এক ক্রেতা। ঘটনাটি শিলিগুড়ির এসএফ রোডে অবস্থিত মাখন ভোগের দোকানকে ঘিরে। শুধু দোকান কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানোর মধ্যেই থেমে না থেকে, সংশ্লিষ্ট ক্রেতা গোটা বিষয়টি নিয়ে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগকারী জানান, অন্যান্য দিনের মতোই তিনি মাখন ভোগের দোকান থেকে ধোসা কিনেছিলেন। পরে সেই খাবার খাওয়ার সময় দোসার মধ্যে অস্বাভাবিক একটি বস্তু দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করেন। তখনই দোসার মধ্যে প্লাস্টিকের মতো একটি টুকরো দেখতে পান বলে অভিযোগ। এর পর তিনি দোকানের ম্যেনেজার কে ডাকেন ও এই বিষয়ে বলেন।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে দোকান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পাশাপাশি, খাবারের মধ্যে এমন বস্তু কীভাবে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরে অভিযোগ জানান। অভিযোগের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।
শহরের একটি পরিচিত মিষ্টির দোকান থেকে কেনা খাবারের মধ্যে প্লাস্টিকের টুকরো পাওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই খাবারের গুণমান, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, খাদ্য প্রস্তুত করার পদ্ধতি এবং পরিবেশনের সময় সতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রতিদিন এই ধরনের দোকানে বহু মানুষ খাবার ও মিষ্টি কিনতে আসেন। ফলে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন ক্রেতাদের একাংশ।

অভিযোগকারীর দাবি, ধোসার মধ্যে পাওয়া বস্তুটি প্লাস্টিকজাতীয়। তবে সেটি ঠিক কী ধরনের বস্তু এবং কীভাবে খাবারের মধ্যে সেটি ঢুকল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রান্নার সময় কোনওভাবে সেটি খাবারের মধ্যে চলে এসেছিল, নাকি খাবার প্যাকেটজাত বা পরিবেশনের সময় এই ঘটনা ঘটেছে—তা তদন্তের পরেই পরিষ্কার হতে পারে।
ইতিমধ্যেই ধোসার মধ্যে পাওয়া কথিত প্লাস্টিকের টুকরো নিয়ে ছবি বা ভিডিও সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, কোনও ক্রেতা যদি খাবারের সঙ্গে এমন কোনও বস্তু খেয়ে ফেলেন, তাহলে তাঁর স্বাস্থ্যের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সেই প্রশ্নও উঠছে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে মাখন ভোগ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগটি সত্য কি না এবং খাবারের মধ্যে থাকা বস্তুটি আদৌ প্লাস্টিক কি না, সেটিও যথাযথভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কাছে অভিযোগ যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কীভাবে খতিয়ে দেখে, কোনও নমুনা সংগ্রহ করা হয় কি না এবং খাবারের মান পরীক্ষা করা হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
একটি পরিচিত খাদ্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় ক্রেতাদের মধ্যেও স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খাবার তৈরির জায়গায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা থেকে শুরু করে কাঁচামাল, রান্নার সরঞ্জাম, প্যাকেজিং এবং পরিবেশনের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দাবি উঠছে।
তবে অভিযোগের সম্পূর্ণ সত্যতা এবং প্লাস্টিকের টুকরোটি কীভাবে ধোসার মধ্যে এল, তা সরকারি তদন্ত ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের পরীক্ষার পরই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব। এখন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।
রিপোর্ট : উৎপল পোদ্দার | আমার কলকাতা
