
দার্জিলিং, আমার কলকাতা: দার্জিলিং পাহাড়ের সিটংয়ে হোমস্টেতে বারবিকিউ করার সময় আগুনে গুরুতর দগ্ধ নববধূর ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন হোমস্টের মালিক, ম্যানেজার এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তি। আদালতের নির্দেশে চারজনকেই চার দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন নাসিরউদ্দিন, হোমস্টে ম্যানেজার দীপেন লামা, মালিক পবন কুমার আগরওয়াল এবং তাঁর ছেলে নিহাল আয়রন। অভিযোগ, বারবিকিউয়ের আগুন জ্বালানোর সময় দাহ্য তরল ব্যবহার করার পর আচমকাই আগুন ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই আগুনে নবদম্পতির মধ্যে নববধূ গুরুতরভাবে দগ্ধ হন।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অভিযোগের ভিত্তিতে একে একে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার তাঁদের কার্শিয়াংয়ের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ অভিযুক্তদের পাঁচ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত চার অভিযুক্তকেই চার দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৩ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সময় বারবিকিউতে কী ধরনের দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিতংয়ের ওই হোমস্টেতে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার এক নবদম্পতি। বারবিকিউ চলাকালীন আচমকা আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় নববধূ গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। তাঁর শরীরের প্রায় ৫৫-৬০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বর্তমানে তিনি শিলিগুড়ির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর হোমস্টে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসা সহায়তায় দেরি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। যদিও হোমস্টে কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ এবং দায় নির্ধারণ করা হবে।
আমার কলকাতা | দার্জিলিং
