📅   |   🕒   |   📍 কলকাতা   |   🔴 Breaking News
🔴 বাংলা থেকে বিশ্ব — খবরের শীর্ষে ‘আমার কলকাতা’।

মহাপুজোয় উইকএন্ড ডেস্টিনেশন টাকি, ইছামতির পাড়ে ৭০ কোটির পাঁচতারা রিসর্ট

আমার কলকাতা, টাকি: দুর্গাপুজোর আগেই নতুন সাজে সেজে উঠছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র টাকি। ইছামতির পাড়, ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং মিনি সুন্দরবনের আকর্ষণে প্রতি বছরই পুজোর মরশুমে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। এবার সেই পর্যটন পরিকাঠামোয় যোগ হতে চলেছে আরও বড় সংযোজন। ১৯ বিঘা জমির উপরে প্রায় ৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি হচ্ছে পাঁচতারা মানের একটি বিলাসবহুল রিসর্ট।

১৯ বিঘা জমিতে তৈরি হচ্ছে বিলাসবহুল রিসর্ট

হোটেল কর্ণধার জয়ন্ত কুণ্ডু জানান, দিভিরা প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে এই রিসর্ট তৈরি হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রকল্পটি চালু হলে সরাসরি অন্তত আড়াইশো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, টাকিতে এতদিন চারতারা মানের হোটেল থাকলেও পাঁচতারা মানের রিসর্ট এই প্রথম।

পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে আধুনিক থাকার ব্যবস্থা, উন্নতমানের রেস্তোরাঁ, সভা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকাঠামো এবং বিনোদনের নানা ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রিসর্টের ছাদে একটি সুইমিং পুলের পাশাপাশি নীচের অংশেও থাকবে আরও একটি বড় সুইমিং পুল।

কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাড়বে স্থানীয় ব্যবসার সুযোগ

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি চালু হলে সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরেও একাধিক ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি হবে। গাড়ি পরিষেবা, খাবারের দোকান, পর্যটক-গাইড এবং ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনও এর ফলে উপকৃত হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ফলে শুধু পর্যটন নয়, টাকির স্থানীয় অর্থনীতিতেও এই বড় বিনিয়োগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘টাকি অসামান্য জায়গা’, বলছেন হোটেল কর্ণধার

জয়ন্ত কুণ্ডু বলেন, “টাকি অসামান্য একটি জায়গা। দেশ-বিদেশের পর্যটন মানচিত্রে বারবার টাকি জায়গা করে নিয়েছে। পুজোর সময় বহু পর্যটক এখানে আসেন। নিয়ম মেনেই রিসর্ট তৈরির কাজ হচ্ছে। বিনিয়োগের ফলে অন্তত আড়াইশো জনের কর্মসংস্থান হবে।”

পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনা দেখছে পুরসভা

টাকি পুরসভার পুরপ্রধান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, “টাকির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আবেগ সারা রাজ্যবাসীর কাছে অনন্য। এত বড় রিসর্ট হলে বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। এটা টাকির পর্যটন শিল্পের ভাল দিক।”

স্থানীয় টোটোচালক অনিমেষ দাসও এই উদ্যোগকে কর্মসংস্থানের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাঁর কথায়, “এ ধরনের হোটেল হলে অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ খুলবে। ছোট ব্যবসায়ীরাও নতুন করে কাজের সুযোগ পাবেন।”

পুজোয় টাকি হতে পারে আরও বড় পর্যটন গন্তব্য

ইছামতির পাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সীমান্তের আবহ, ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং মিনি সুন্দরবনের আকর্ষণে টাকি ইতিমধ্যেই পর্যটকদের কাছে পরিচিত। তার সঙ্গে নতুন এই বড় রিসর্ট যুক্ত হলে আগামী দিনে পর্যটন পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে দুর্গাপুজোর মরশুমে পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য টাকিতে প্রায় ৭০ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে। রিসর্টটি চালু হলে পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

রিপোর্ট: চিন্ময় চক্রবর্তী, আমার কলকাতা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top