
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা :
‘শুভকে পছন্দ করি, তাই এসেছি।’ বাড়ি ছেড়ে এক যুবকের কাছে চলে আসা নিয়ে প্রশ্নের মুখে এমনই দাবি এক নাবালিকা কিশোরীর। তাঁর দাবি, তাঁকে কেউ অপহরণ করে নিয়ে আসেনি। নিজের ইচ্ছাতেই তিনি বাড়ি ছেড়ে এসেছেন। ঘটনাকে ঘিরে বিয়ে, ধর্মান্তর এবং নাবালিকার নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
কিশোরীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি শুভ নামে এক যুবককে পছন্দ করেন। সেই কারণেই তাঁর কাছে চলে এসেছেন। শুভ তাঁকে আসতে বলেননি বলেও জানিয়েছেন তিনি। বরং বাড়ি থেকে তাঁর বিয়ের কথা চলছিল। সেই পরিস্থিতিতেই নিজের পছন্দের মানুষের কাছে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বাবা-মাকে ফোন করে তিনি কোথায় যাচ্ছেন, সে কথা জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন কিশোরী। বাবা-মা কী বলেছেন জানতে চাওয়া হলে তাঁর বক্তব্য, তাঁরা বিশেষ কিছু বলেননি। তবে নিজের সিদ্ধান্তে তিনি অনড়। তাঁর কথায়, তিনি শুধু শুভকেই চান।
ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিয়ের প্রসঙ্গও। কিশোরীর বয়স এখনও বিয়ের উপযুক্ত হয়নি—এ কথা জানানো হলে তিনি জানান, আইনিভাবে বিয়ে সম্ভব না হলেও মন্দিরে বিয়ে করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
বিয়ের ক্ষেত্রে পরিবারের সম্মতি এবং ধর্মীয় রীতির বিষয়টি সামনে এলেও কিশোরীর বক্তব্য, শুভকে ছাড়া তিনি অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে চাইছেন না। বার বার তাঁকে পরিবার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তাঁর বক্তব্যে শুভকেই পাওয়ার ইচ্ছার কথা উঠে এসেছে।
কিশোরী জানিয়েছেন, সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন এবং কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে থাকা অবস্থাতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ঘটনায় ধর্মীয় পরিচয়ের বিষয়টিও সামনে এসেছে। কিশোরী মুসলিম এবং শুভ হিন্দু—এই বিষয়টি তিনি জানেন বলেই জানিয়েছেন। জেনেশুনেই শুভকে পছন্দ করেছেন এবং তাঁর কাছে এসেছেন বলেও দাবি তাঁর।
পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে কিশোরীর বক্তব্য, তাঁরা ভবিষ্যতে কী করবেন তা তিনি জানেন না। তাঁর কাছে এখন একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুভ। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমার শুভকে লাগবেই, আর কিছু না।’’
অন্য দিকে, শুভর পরিবারের এক সদস্যের কাছেও বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। কিশোরী নিজের ইচ্ছায় থাকতে চাইলে আপত্তি না থাকার কথা জানানো হয়েছে। তবে কিশোরী নিজের ইচ্ছায় না থাকলে তাঁকে জোর করে রাখার পক্ষেও পরিবারের সম্মতি নেই বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অপহরণের অভিযোগ। কিশোরী নিজেই জানিয়েছেন, তাঁকে কেউ অপহরণ করে নিয়ে আসেনি। নিজের ইচ্ছাতেই তিনি সেখানে এসেছেন বলে দাবি তাঁর।
তবে কিশোরী নাবালিকা হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিয়ে, অভিভাবকের সম্মতি, ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের প্রশ্ন এবং কিশোরীর নিরাপত্তা—প্রতিটি বিষয়ই আইনগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের পাশাপাশি প্রশাসন ও পুলিশের তদন্তের ফলাফলও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, কিশোরীর নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। প্রশাসন ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকেও নজর রয়েছে।
#নাবালিকা #নাবালিকারবিয়ে #বিয়ে #ধর্মান্তর #প্রেমেরসম্পর্ক #বাড়িছাড়া #অপহরণ #শ্রীপুর #বাংলাখবর #রাজ্যসংবাদ #কলকাতাপোর্টাল