
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে অবশেষে বিভিন্ন স্লোগান-মূলক পোস্টার মুছে ফেলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়েছিল বলে জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরই পোস্টারগুলি সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যাদবপুরের দেওয়ালে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’, ‘রেড স্যালুট’-সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “এই স্লোগানগুলো কি দেশের পক্ষে বা শিক্ষার স্বার্থে ছিল?” তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে কী ধরনের স্লোগান থাকবে, তা নিয়ে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
‘রেড স্যালুট’ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বামপন্থী সশস্ত্র আন্দোলনের হিংসাত্মক ঘটনাগুলির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা এবং সালুয়া এলাকায় ইএফআর জওয়ানদের মৃত্যুর ঘটনাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
নেপালে নিখোঁজ রাজ্যের বাসিন্দাদের নিয়ে উদ্বেগ
নেপালে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের নিখোঁজ বাসিন্দাদের প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভবানী ভবন ও রাজ্য সচিবালয়ে কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে। আগে ৩৯ জন নিখোঁজের খবর থাকলেও দু’জন ফিরে এসেছেন। বর্তমানে ৩৭ জনের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। বসিরহাটের একটি পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ফেরার ছবিও পাওয়া গিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডেঙ্গি নিয়ে চিকিৎসকদের নির্ভয়ে রিপোর্ট করার বার্তা
রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী জানান, রোগ থাকলে তা সরকারি নথিতে সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে। ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে তথ্য গোপন করার কোনও কারণ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “ডেঙ্গি হলে ডেঙ্গি লিখবেন, না হলে লিখবেন না।” একইসঙ্গে ডেঙ্গির লার্ভা যাতে না জন্মায়, সেজন্য কলকাতা সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি।
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর, সেচ দফতর এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরকে সমন্বয় করে কাজ করার কথা বলা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এ জন্য টাস্ক ফোর্সও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রেস্তোরাঁর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা
রাজ্যের রেস্তোরাঁগুলির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বহু রেস্তোরাঁয় এখনও দমকলের ছাড়পত্র বা ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।
তবে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে সময় ও সুযোগ দেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। লাইসেন্সের আবেদন অনলাইনে করার ব্যবস্থা এবং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে হয়রানি ও ঘুষ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানলে প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। নিউ মার্কেটের ঘটনার পর ইতিমধ্যেই কয়েকটি হোটেলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তারাপীঠ ও নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে দমকল কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তারাপীঠের ঘটনায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকল কর্মীরা ৩৪ জনকে উদ্ধার করেন। নিউ মার্কেটের ঘটনাতেও বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল বলে জানান তিনি।
বেআইনি কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা
বাগুইআটির বাসিন্দা এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতারের প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন সবার জন্য সমান। তাঁর বক্তব্য, যে-ই আইন ভাঙবে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“যে আইন ভাঙবে, আইন তার নিজের হাতে নেবে—ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে,” বলে মন্তব্য করেন তিনি। অভিযুক্ত ব্যক্তি যে-ই হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মিড-ডে মিল নিয়ে পুরনো সমস্যা মিটেছে দাবি
রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে কয়েক মাস ধরে মিড-ডে মিলের টাকা না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তবে তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির চার মাসের পিএম পোষণ প্রকল্পের টাকা এবং রাঁধুনিদের পারিশ্রমিক ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চার দিন আগেই টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, এই সংক্রান্ত খবর পুরনো।
সংগঠন ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের বার্তা
সাংগঠনিক বৈঠক প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের কাজের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংগঠন ও সরকারের মধ্যে আরও সমন্বয় তৈরি করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে দলের আদর্শের সঙ্গে আপস না করার কথাও বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মানবতাবাদ ও জনকল্যাণের আদর্শের কথা উঠে আসে।
বছরে দু’বার ‘সেবা পক্ষ’ পালনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর এবং ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই পক্ষ পালন করা হয় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংগঠনের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ শিবিরে আলোচিত সমস্ত বিষয় প্রকাশ্যে বলা সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
#যাদবপুর #যাদবপুরবিশ্ববিদ্যালয় #JadavpurUniversity #Jadavpur #WestBengal #Dengue #NepalDisaster #FireSafety #KolkataNews #MyKolkata