
নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর:
স্বাধীনতার অগ্নিযুগের অন্যতম বীর বিপ্লবী শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের মোহবনিতে তাঁর পৈতৃক ভিটেতে হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী। দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথমবার শহিদ দিবসে কেশপুরে এসে ক্ষুদিরামের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। একই সঙ্গে বীর বিপ্লবীর স্মৃতিবিজড়িত জন্মভিটে সংরক্ষণ, সংগ্রহশালা ও আর্ট গ্যালারি তৈরির কাজের জন্য ৫ কোটি টাকা আর্থিক বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন ক্ষুদিরাম বসুর প্রতিকৃতি ও মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরেই পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি পেরিয়ে বিপ্লবীদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। আক্ষেপের সুরে বলেন, সিলেবাসের গুটিকয়েক লাইনের মধ্যে শহিদদের আত্মত্যাগকে আটকে রাখা উচিত নয়। বিপ্লবীদের সংগ্রাম ও আদর্শের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরতে হবে তরুণ প্রজন্মের সামনে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোহবনি উন্নয়ন পর্ষদের অ্যাকাউন্টে এই ৫ কোটি টাকা জমা করা হচ্ছে। এই অনুদানের টাকায় শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর পৈতৃক ভিটে সংস্কার ছাড়াও সেখানে একটি আধুনিক মিউজিয়াম, আর্ট গ্যালারি এবং লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, ক্ষুদিরাম বসু ও স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে যাঁরা গবেষণা করতে ইচ্ছুক, তাঁদের থাকার সুব্যবস্থাও ওই চত্বরে করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর কেশপুরের মতো ঐতিহ্যমণ্ডিত এলাকায় শহিদ দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতি এবং একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।