
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বিধানসভায় উত্থাপিত পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত (সংশোধনী) বিল-এর আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখলেন গোসোয়ার বিধায়ক। গ্রামীণ মানুষের দৈনন্দিন প্রশাসনিক সমস্যা, পরিষেবার স্বচ্ছতা এবং উন্নয়নের স্বার্থে একাধিক প্রস্তাব ও পরামর্শ তুলে ধরেন তিনি।
বিধায়কের বক্তব্যে উঠে আসে, পঞ্চায়েত শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক কাঠামো নয়, এটি গ্রামীণ মানুষের কাছে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা কেন্দ্র। তাই জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র, আবাসিক শংসাপত্র, ওয়ারিশান সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেই বিষয়ে স্পষ্ট নীতির প্রয়োজন রয়েছে।
আলোচনায় তিনি বলেন, সংশোধনী বিল কার্যকর হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে যদি পঞ্চায়েতের দায়িত্ব প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হাতে থাকে, তবে পরিষেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জরুরি শংসাপত্র প্রদানের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
এছাড়াও ওয়ারিশান সার্টিফিকেট সহ গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন বিধায়ক। তাঁর মতে, এতে ভুয়ো বা ভুল শংসাপত্র ইস্যুর সম্ভাবনা কমবে এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।
বক্তব্যে তিনি গ্রামীণ উন্নয়নের প্রশ্নেও গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর দাবি, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গড়ে উঠলে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে। গ্রামের রাস্তা, পানীয় জল, আবাসন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বিধানসভায় আলোচনার শেষে সংশোধনী বিলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের ফলে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জনমুখী হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ মানুষের প্রশাসনিক পরিষেবা পাওয়া আরও সহজ হবে এবং উন্নয়নের গতি বাড়বে।