📅   |   🕒   |   📍 কলকাতা   |   🔴 Breaking News
🔴 Breaking News : কলকাতার সর্বশেষ খবর এখানে দেখানো হবে।

সাংবাদিকদের রক্তক্ষরণ ও ‘সেবাসদন’ কেলেঙ্কারি: বিধানসভায় চড়া সুরে কড়া বার্তা শাসকের

নিজস্ব সংবাদদাতা,আমার কলকাতা: একদিকে কলকাতার রাজপথে সংবাদমাধ্যমের ওপর নজিরবিহীন হামলা, অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে ‘ভাইপো সেবাসদন’-এর বিরাট কেলেঙ্কারি— এই জোড়া ইস্যুতে মঙ্গলবার উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য বিধানসভা। দুই ঘটনাতেই জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিল শাসক পক্ষ। গতকালের ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘গুন্ডা দমন আইন’ প্রয়োগ করা হয়েছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “সময় কথা বলবে, অপরাধীদের রেয়াত করা হবে না।”


রাজপথে রক্তাক্ত সংবাদমাধ্যম: কাঠগড়ায় বামপন্থী সংগঠনসোমবার কলকাতার ধর্মতলায় ‘ককরোচ মার্চ’-এর নাম করে যে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল, তা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ডোরিনা ক্রসিং-এ। অভিযোগ, এসএফআই (SFI) ও ডিওয়াইএফআই (DYFI)-এর মতো বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের ছত্রছায়ায় থাকা একদল দুষ্কৃতী সরাসরি সংবাদমাধ্যমের ওপর চড়াও হয়। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শাসকদলের প্রতিনিধি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সংযম দেখানো হলেও সাংবাদিকদের ওপর নির্বিচারে জুতো ও বোতল বৃষ্টি করা হয়েছে।


এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দীপঙ্কর দাশগুপ্ত, মাখন পাত্র, সুমন মহাপাত্র-সহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। তাঁরা বর্তমানে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতটি মামলা রুজু হয়েছে। খিদিরপুর, রাজাবাগান ও ওয়াটগঞ্জ এলাকার একাধিক অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, বিধানসভায় পাশ হওয়া ‘গুন্ডা দমন আইন’ প্রয়োগ করে তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। শাসকের হুঙ্কার, “এই গুন্ডাদের এমন সাজা হবে যা তিন পুরুষ মনে রাখবে।”


‘ভাইপো সেবাসদন’ ঘিরে ঘনীভূত রহস্য: পর্দাফাঁস দুর্নীতির এদিন বিধানসভায় আরও একটি বিস্ফোরক বিষয় সামনে আসে— ‘ভাইপো সেবাসদন’ বা ‘ভাইপো সেবাশ্রম’ নামে এক চিকিৎসা শিবিরের আড়ালে চলা বিরাট দুর্নীতি। অভিযোগ, বিষ্ণুপুর-সহ একাধিক এলাকায় সরকারি হাসপাতালের এক্স-রে ও ইউএসজি মেশিন চুরি করে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ২০২১ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ (Expired) ওষুধ ২০২৬ সালের তকমা দিয়ে রোগীদের দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে নেমে সিআইডি (CID) ও এসটিএফ (STF) বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ও মেশিন উদ্ধার করেছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক রাজীব বিশ্বাস। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন, এক প্রকার বাধ্য হয়েই তিনি ওই শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।


তদন্তে সিআইডি-এসটিএফ: নজরে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা
শাসকদলের প্রতিনিধি দেবাংশু পণ্ডার আনা এই অভিযোগের ভিত্তিতে জানানো হয়, পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা শাসকরা ইতিমধ্যেই এই দুর্নীতির রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। সরকারি মেশিন বাইরে বের করার অভিযোগে এবং রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অপরাধে কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।


বিধানসভার ভাষ্য অনুযায়ী, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর আক্রমণ এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এই যে জোড়া অপরাধ সংগঠিত হয়েছে, তার বিচার হবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা মেনেই। সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বিরোধী বেঞ্চের একাংশকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসক শিবির। সব মিলিয়ে, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য দুর্নীতির পর্দাফাঁস নিয়ে মঙ্গলবার দিনভর তপ্ত থাকল বিধানসভার অন্দর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top