
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:
দেশে চলমান আন্দোলন ও বিক্ষোভের আবহে ‘পেশাদার আন্দোলনকারী’ এবং বিদেশি শক্তির প্রভাব নিয়ে সরব হলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করে সরকার ও দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “একসময় দেশে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জনতা পার্টি তৈরি হয়েছিল এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু আজ সেই স্বৈরাচারীদের উত্তরসূরিরাই আবার অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। যুবকদের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেশের সরকার ও সংবিধানের বিরুদ্ধে আন্দোলন তৈরি করা হচ্ছে।”তিনি আরও দাবি করেন, অতীতেও বিদেশি শক্তির প্রভাবে ভারতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তবে দেশের মানুষ এই ধরনের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘পেশাদার আন্দোলনকারী’দের নিশানা
আন্দোলনকারীদের একাংশকে নিশানা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কিছু পেশাদার আন্দোলনকারী রয়েছেন, যারা বিদেশের অর্থে নিজেদের সংগ্রামী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। বারবার একই মুখকে বিবৃতি দিতে ও ভাষণ দিতে দেখা যায়।”তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন ইস্যুতে সাধারণ মানুষ বা কোনও সম্প্রদায়কে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করা হয়।
কলকাতায় আন্দোলন নিয়ে সতর্কবার্তা
কলকাতাকে আন্দোলনের শহর হিসেবে স্বীকার করেও দিলীপ ঘোষ বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আপত্তি নেই। তবে দিল্লিতে যে ধরনের ঘটনা দেখা গিয়েছে—পুলিশের উপর হামলা, দেশের সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য—তা কলকাতায় কোনওভাবেই কাম্য নয়।তিনি বলেন, “আন্দোলনের নামে হিংসা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করা বরদাস্ত করা যাবে না।”
প্রশাসনের কাছে আবেদন
যেকোনও আন্দোলনের অনুমতি দেওয়ার আগে পুলিশ ও প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, কোনও কর্মসূচির পিছনে কারা রয়েছে, কোনও অশুভ শক্তির ভূমিকা আছে কি না—তা খতিয়ে দেখেই অনুমতি দেওয়া উচিত।