
ডুয়ার্স, আমার কলকাতা: সন্ধ্যা নামলেই জঙ্গল থেকে লোকালয়ে খাবারের সন্ধানে চলে আসছে হাতির দল। রাতভর ধানক্ষেতে দাপাদাপি করে ফসলের ক্ষতি করার পর ভোরের আলো ফুটতেই আবার জঙ্গলে ফিরে যাচ্ছে হাতিরা। ডুয়ার্সের বানারহাট ব্লকের উত্তর চানাডিপা এলাকায় হাতির এমন আনাগোনায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খাবারের সন্ধানে রাতের অন্ধকারে ধানক্ষেতে ঢুকে পড়ছে হাতির দল। ধানের জমিতে হাতির দাপাদাপিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল। এরপর ভোর হতেই মরাঘাট রেঞ্জের তোতাপাড়া জঙ্গলে ফিরে যাচ্ছে হাতিগুলি। ফলে রাত জেগে ফসল পাহারা দিয়েও ধান বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।
ডুয়ার্সের বিভিন্ন জঙ্গললাগোয়া এলাকায় হাতির হানা নতুন ঘটনা নয়। সন্ধ্যা নামার পর থেকেই লোকালয়ের দিকে হাতির দল চলে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে বাসিন্দাদের মধ্যে। কখনও গ্রামবাসীদের চিৎকারে জঙ্গলে ফিরে যাচ্ছে হাতিরা, আবার কখনও ধানক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি করে চলে যাচ্ছে। এর জেরে একদিকে যেমন কৃষকদের ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে হাতির আনাগোনায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
অন্যদিকে, বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণ বিভাগের বনকর্মীরা নিয়মিত টহলদারি চালালেও হাতির হানা পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে হাতির আনাগোনা চলতে থাকলে ধানের ফলন কমার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে পারে।
জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় হাতির বিচরণ এবং লোকালয়ে খাবারের সন্ধানে চলে আসার ঘটনা নতুন করে হাতি-মানুষ সংঘাতের বিষয়টিকে সামনে এনে দিয়েছে। তাই কৃষকদের ফসল রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠছে।
এখন একটাই প্রশ্ন, উত্তর চানাডিপা-সহ ডুয়ার্সের জঙ্গললাগোয়া এলাকায় হাতির হানা রুখতে এবং কৃষকদের ফসল রক্ষা করতে কী ব্যবস্থা নেবে বন দফতর? সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার কৃষক ও বাসিন্দারা।