
রাজেন্দ্র নাথ দত্ত, মুর্শিদাবাদ:
থিমের চমক আর আলোর ঝলমলের যুগেও পুরনো রীতি আঁকড়ে রয়েছে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বহুরা গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজো। পরিবারের দাবি, প্রায় ৭০০ বছর ধরে চলে আসছে এই পুজো। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিত ‘কোদাখাঁকি পুজো’ নামে।
লোককথা অনুযায়ী, একসময় জঙ্গলে ঘেরা এই এলাকায় ডাকাতরা পুজো করে ডাকাতিতে যেতেন। পরে পুজোর দায়িত্ব আসে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের হাতে। এখনও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেই পরম্পরা চলছে।
এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য মায়ের ভোগ। সাধারণ চালের পরিবর্তে দেবীকে দেওয়া হয় ‘কোদার চাল’, কচুশাক ও ইলিশ মাছ। পরিবারের সদস্য প্রীতিশ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এক ভয়াবহ বন্যায় ধানের জমি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর স্বপ্নাদেশ মেনে এই বিশেষ ভোগ দেওয়ার রীতি শুরু হয়।
এখানে পুজোর বোধনও হয় মহালয়ার সাত দিন আগে। এরপর টানা ১৫ দিন চলে চণ্ডীপাঠ। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় রীতি সন্ধিপুজোকে ঘিরে।
এখানে ঘড়ি দেখে সন্ধিপুজো শুরু হয় না। প্রদীপের শিখা যখন দক্ষিণ দিকে হেলে যায়, তখনই শুভক্ষণ এসেছে বলে ধরা হয়। এরপর ঢাকের বাদ্যি ও মন্ত্রোচ্চারণে শুরু হয় সন্ধিপুজো।
তান্ত্রিক মতে পুজো হওয়ায় এখনও নবমীতে পাঁঠাবলির রীতি রয়েছে। বিসর্জনের ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়া নিয়ম। দশমীর রাত ১২টা ১ মিনিটের আগে কোনওভাবেই দেবীকে আসন থেকে নামানো হয় না।
পুজোকে ঘিরে সারা বছরই নানা লোকবিশ্বাস প্রচলিত। গভীর রাতে নুপুরের শব্দ বা দেবীর প্রতিবিম্ব দেখা যায় বলেও স্থানীয়দের দাবি। সেই বিশ্বাস আর প্রাচীন রীতির টানেই প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ ছুটে আসেন বহুরার এই ঐতিহ্যবাহী পুজো দেখতে।
Mursidabad Durgapujo
