
রিয়াদ | আমার কলকাতা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। একই সময়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়। ঘটনার জেরে বিমানবন্দরে উড়ান পরিষেবায় সাময়িক বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া দাবি করেছেন, রিয়াদের একাধিক ‘সংবেদনশীল স্থাপনা’ এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা আরামকোর ইয়ানবু এলাকার স্থাপনায় বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
এর আগে সৌদি সিভিল ডিফেন্স রিয়াদ ও আশপাশের এলাকায় সম্ভাব্য আকাশপথে হামলার সতর্কতা জারি করেছিল। বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ঘোষণা করা হয়।
এদিকে রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কে আগুন লাগার দৃশ্য দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ঘটনাস্থলে দমকলকর্মীদের আগুন নেভানোর চেষ্টা করতেও দেখা যায়। তবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সরকারি ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত বাহিনী এবং হুথিদের মধ্যে লড়াইয়ের পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাও বেড়েছে। গত কয়েকদিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব শুধু সৌদি আরব ও ইয়েমেনেই সীমাবদ্ধ নয়। লোহিত সাগর ও গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথগুলিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
ঘটনার পর রিয়াদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। হামলার ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্যের দিকে নজর রয়েছে।
BBC News; AFP/Reuters-এর উদ্ধৃত তথ্য
